হজের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত, মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:২৮, আগস্ট ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪, আগস্ট ১১, ২০১৯

মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা পাঠ ও জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হজের মূল আনিষ্ঠানিকতা।  শনিবার(১০ আগস্ট) দুপুরে আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা শুরু হয়।এ বছর হজে খুতবা পাঠ করেছেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে আশ-শায়খ। এর আগে আরাফাত ময়দানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয় লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।

ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্যদিয়ে হজ পালন করতে হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এবারের হজে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। এদের বেশিরভাগই সৌদি আরবের বাইরের নাগরিক। হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে আরাফাত ময়দানে অংশগ্রহণ। শুক্রবার মিনায় রাত্রি যাপনের পর শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকেই আরাফাত ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে এখানে যেতে হয়। হাজিরা নামিরা মসজিদ থেকে দেওয়া খুতবা শোনার পর জোহর ও আসরের নামাজ একইসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন। তারপর হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও কোরান তেলওয়াতের মাধ্যমে সূর্যাস্তের অপেক্ষা করবেন। সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন হাজিরা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

শনিবার খুতবায় সঠিক ইসলামের পথে মুসলিমদের ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।  মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়াও করেন শায়খ মুহামম্দ বিন হাসান আলে আশ-শায়খ তিনি বলেছেন, আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরাই মুক্তির একমাত্র পথ। নতুন এই খতিব হারামাইন শরিফাইনের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সৌদি রাজপরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজসহ রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করেছেন। খুতবায় মুহাম্মদ বিন সালমানের কথাও উল্লেখ করেন। তার দীর্ঘ হায়াত ও কল্যাণের জন্যও দোয়া করা হয়।

খুতবা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে। অনেক হজ এজেন্সি নিজ উদ্যোগে আরাফার ময়দানে উপস্থিত হাজীদেরকে খুতবার অনুবাদ শোনানোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। হজের খুতবা সমাপ্ত হবার পর ইমামের পেছনে পরপর জোহর ও আসরের নামাজ জোহরের ওয়াক্তে আদায়ের পর সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন হাজিরা।

মুসলিম উম্মাহর মুক্তির উপায় উল্লেখ করে হজের খুতবায় শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান বলেন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালার রহমতের কথা বারবার বলা হয়েছে। আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরাই মুক্তির একমাত্র উপায়। এ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

রবিবার (১১ আগস্ট) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে হাজিরা সাধারণত ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পরে শুরু হবে হাজিদের দেশে ফেরার পালা।

মক্কা অঞ্চলের গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল শুক্রবার (৯ আগস্ট) জানান, হাজিদের সেবা দিতে শত কোটি ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তারা। মিনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অতিথিদের স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে তারা কুণ্ঠিত নন। ফয়সাল আরও জানান, হাজিদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি সামরিক-বেসামরিক সদস্য এবং ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন করা হয়েছে।

/এমএইচ/বিএ/

লাইভ

টপ