ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছররা গুলিতে কাশ্মিরবাসীর আহত হওয়ার ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সেখানকার পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং দাবি করেছেন, ‘সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে উপত্যকায় উত্তেজনা ছিল ঠিকই, তবে হিংসার ঘটনা ঘটেনি। গত ৬ দিনে একটাও গুলি চলেনি কাশ্মিরে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।’
সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর কথা বলে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। সীমিত করা হয়েছে ইন্টারনেট। জারি ছিল কারফিউও। সোমবার ঈদ। তার আগে টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেটসহ যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে কেন্দ্র। খুলেছে স্কুল-কলেজ।
কারফিউর কবলে থাকা কাশ্মির যাতে ঈদ উদযাপন করতে পারে এবং প্রবাসী কাশ্মিরিরা বাড়ি ফিরে আসতে পারে সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সরকারি নির্দেশে। দিলবাগ সিংয়ের কথায়, “গত ক’দিনে বড় কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি পরিস্থিতি স্বাভাবিক দক্ষিণ কাশ্মিরেও। সোমবার ঈদের আগে রাজ্যের আরও কিছু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।”
টেলিফোন ও ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণসহ কাশ্মিরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র উপস্থাপন করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে সংবাদকর্মীদের জন্য। তা সত্ত্বেও ৮ আগস্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এরপরও অঞ্চলটিতে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ হচ্ছে। শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ছররা গুলিবিদ্ধ আট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট। তবে কাশ্মির পুলিশ দাবি করছে কোনও গুলি ছোড়া হয়নি।







