রাহুল গান্ধীকে বিমান পাঠাতে চাইলেন কাশ্মিরের গভর্নর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৪:৩০, আগস্ট ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৯, আগস্ট ১৪, ২০১৯

জম্মু-কাশ্মিরের সহিংস পরিস্থিতি ও সরকারি পদক্ষেপের সমালোচনা করায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কঠোর সমালোচনা করেছেন সেখানকার গভর্নর সত্য পাল মালিক। সোমবার তিনি বলেন, কংগ্রেস নেতার জন্য তিনি একটি বিমান পাঠাতে চান যাতে করে তিনি কাশ্মির উপত্যকা পরিদর্শন করে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

কাশ্মিরের গভর্নর সত্য পাল মালিক

গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনও গণপরিবহন নেই। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা জনশুণ্য রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র সেনারা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাশ্মিরের কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কারফিউ পুনর্বহাল করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে সহিংসতার খবর অস্বীকার করে আসছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার কংগ্রেসের সদ্য সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন জম্মু-কাশ্মিরে সহিংসতার বেশ কিছু খবর পাওয়া গেছে। সোমবার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান কাশ্মিরের গভর্নর সত্য পাল মালিক। তিনি বলেন, ‘আমি রাহুল গান্ধীকে এখানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি আপনাকে একটি বিমান পাঠাতে পারি, যাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কথা বলতে পারেন। আপনি একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আপনার এভাবে কথা বলা উচিত নয়’।

কাশ্মিরের সায়ত্ত শাসন বাতিলের ক্ষেত্রে কোনও সাম্প্রদায়িক মনোভাব নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও ৩৫ (এ) ধারা সবার জন্য প্রযোজ্য। এটা বাতিলের ক্ষেত্রে কোনও সাম্প্রদায়িক মনোভাব নেই। কিছু মানুষ এটা নিয়ে উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিদেশি সংবাদমাধ্যম একটা প্রচেষ্টা নিয়েছিল আর আমরা তাদের সতর্ক করেছি। সব হাসপাতাল আপনাদের জন্য খোলা আর যদি একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে খুঁজে দেখান, প্রমাণ করুন। কিন্তু সহিংসতার জন্য কেবল চার জন্য মানুষের পায়ে রাবার বুলেটের আঘাত লেগেছে তবে তারা কেউই গুরুতর আহত নয়।

কাশ্মির বন্দি শিবিরে পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সত্য পাল মালিক বলেন, যেসব মানুষ এই অভিযোগ করেছেন তারা বন্দি শিবিরের অর্থ জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমি জানি এটা কী? আমি ৩০ বার জেলে গেছি। তখনও আমি সেটাকে বন্দি শিবির বলতে পারিনি। তারা (কংগ্রেস) জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেড় বছর মানুষকে বন্দি করে রেখেছিল, কিন্তু কেউই তখন সেটাকে বন্দি শিবির বলেনি। সতর্কতামূলকভাবে গ্রেফতার কী বন্দি শিবির’?

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ