কাশ্মির ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ চীন-পাকিস্তানের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:০৬, আগস্ট ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৩, আগস্ট ১৭, ২০১৯

কাশ্মির ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান ও চীন। এর অংশ হিসেবেই ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম কাশ্মির ইস্যুতে চীনের আহ্বানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর শুক্রবার ৯০ মিনিটের এ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীন কাশ্মির পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করলেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি না দেওয়ার অর্থ হচ্ছে এর বেশিরভাগ সদস্য দেশই কাশ্মির ইস্যুকে পাকিস্তান ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বিষয় মনে করে। অর্থাৎ, শুরুতেই হোঁচট খেলো পাকিস্তান ও চীনের উদ্যোগ।
সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই জানিয়েছে, চীনের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল যেন আলোচনার পর নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পোল্যান্ড আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের পাশে দাঁড়ায় পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য। যদিও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মিরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই পাস হয়ে যায় বিলটি। এ ঘটনার পর জাতিসংঘে বৈঠকের আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে। নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জোয়ানা রোনেকাকে এই চিঠি দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালেহা লোদি। পরে কুরেশি সমর্থন আদায়ে চীন সফর করেন। বুধবার চীন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের জন্য আহ্বান জানালে শুক্রবার তা অনুষ্ঠিত হয়।

নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর ফলাফল জানতে চাওয়া হলে জাতিসংঘের এক কূটনীতিক বলেন, বেশি কিছু না। এমনকী নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাও এক বিবৃতিতে রাজি হতে সম্মত হয়নি। তারা আরও জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে কেউ পাকিস্তানের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব দেখাতে পারে বা এমন কোনও বক্তব্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে; এমন আশঙ্কায় বিবৃতি দিতে একমত হয়নি পরিষদের সদস্য দেশগুলো।

ওই কূটনীতিক জানিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট হতে পারে এমন ভাষা ব্যবহারে আপত্তি আছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্সের। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে চীন দাবি করে, সংবিধান সংশোধন করে ভারত সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। চীনা কূটনীতিক বলেন, এই মুহূর্তে কাশ্মিরের পরিস্থিতি বিপজ্জনক। কাশ্মিরের দীর্ঘদিনের অবস্থা ভারতের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এমন একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বৈধ নয়। চীনের রাষ্ট্রদূত জুন ঝ্যাং বৈঠকের পর জানান, কাশ্মির ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের একতরফা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।

জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালেহা লোদি বলেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ কূটনীতিক ফোরামে আজ কাশ্মিরিদের কথা, অধিকৃত কাশ্মিরের মানুষের কথা শোনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈঠকের মাধ্যমের মাধ্যমে নিশ্চিত হলো যে, এই সমস্যা আন্তর্জাতিক ইস্যু। কাশ্মির সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ইসলামাবাদ প্রস্তুত।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবারুদ্দিন বলেন, ‘এটা একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের আন্তর্জাতিক করিৎকর্মাদের প্রয়োজন নেই।’ তিনি আরও বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধগুলো শিথিল করা হবে। সাধারণ নাগরিকদের ওপর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও যোগাযোগ জটিলতা ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি বলেন, ইমরান খান কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। কাশ্মির পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের অবস্থা নিয়ে দুই নেতা কথা বলেন। ট্রাম্প-ইমরানের আলোচনায় কাশ্মির ইস্যু ছাড়াও আফগানিস্তান পরিস্থিতি, তালেবানের সঙ্গে আলোচনাও স্থান পায়। পরে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা কমাতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ওপর গুরুত্বের কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

/এমপি/

লাইভ

টপ