তেল ট্যাংকার ছেড়ে দিতে যুক্তরাজ্যকে বাধ্য করা হয়েছে: ইরান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৫২, আগস্ট ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৩, আগস্ট ১৭, ২০১৯

যুক্তরাজ্যের হাতে আটক ইরানি তেল ট্যাংকার ছেড়ে দিতে দেশটিকে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। শনিবার ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে এমন দাবি করেন দেশটির স্পিকার আলী লারিজানি। তিনি বলেন, তেহরানের দৃঢ়তার কারণেই যুক্তরাজ্য নতি স্বীকারে বাধ্য হয়েছে। ইরানি পদক্ষেপের কারণে লন্ডন জলদস্যুতা থেকে পিছু হটেছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পার্স টুডে।
আলী লারিজানি বলেন, যুক্তরাজ্য বুঝতে পেরেছে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। অতীতের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল নেই। কাজেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা যাবে না। আর এটা উপলব্ধি করার পরই তারা জলদস্যুতা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ইরানের বৈধ মোসাদ্দেক সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান করিয়েছিল যুক্তরাজ্য। তারা মোসাদ্দেক সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। পরবর্তীতে শাহকে নিজেদের ক্রীড়নকে পরিণত করেছিল। কিন্তু আজ পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

আলী লারিজানি বলেন, তেহরানের একটি চমৎকার পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাজ্য ইরানি তেল ট্যাংকার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার জিব্রালটারের সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শেষে ট্যাংকারটিকে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। তবে এদিন একেবারে শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার কারণে তেল ট্যাংকারটিকে ছেড়ে দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

জিব্রাল্টারের মুখ্যমন্ত্রী ফাবিয়ান পিকার্ডো ইরানের তেল ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ান-এর আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বৃহস্পতিবার আদালতে কোনও আবেদন করেননি। ফলে ট্যাংকারটিকে মুক্তি দিতে আর কোনও বাধা ছিল না।

ইরানের বন্দর ও সমুদ্র বিষয়ক জাতীয় সংস্থার উপ-প্রধান জলিল ইসলামি জানিয়েছিলেন, তারা তেল ট্যাংকারটিকে ছাড়িয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। লন্ডন কূটনৈতিক উপায়ে বিষয়টি সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে।

গত ৪ জুলাই যুক্তরাজ্য নিয়ন্ত্রিত জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে ইরানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ান জব্দ করে ব্রিটিশ মেরিন সেনারা। ইতোমধ্যেই জাহাজের সব ক্রুকে মুক্তি দিয়েছে জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ। জব্দ করার পর থেকে ইরান ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ব্রিটেন দাবি করছে, অপরিশোধিত তেল নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় জাহাজটি জব্দ করা হয়। তবে ইরান বলছে জাহাজটি সিরিয়ায় যাচ্ছিল না এবং সিরিয়ার কোনও বন্দরেই এ ধরনের জাহাজ ভিড়তে পারে না।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকার্ডো ইরানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ান জব্দ রাখার আদেশের জন্য নতুন কোনও আবেদন করবেন না। কারণ ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তেলের ট্যাংকারটি আর সিরিয়ায় যাচ্ছে না।

পিকার্ডোর ঘনিষ্ঠ সূত্র উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা সান এর আগে জানিয়েছিল, ‘সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে গ্রেস-ওয়ান; এমনটা যদি আমরা আর বিশ্বাস না করি তাহলে তেল ট্যাংকারটি আর এক মুহূর্তও আটকে রাখার কারণ নেই।’

/এমপি/

লাইভ

টপ