সুদানের ক্ষমতা ভাগাভাগি চুক্তিকে স্বাগত তুরস্ক ও কাতারের

সুদানের ক্ষমতা ভাগাভাগি চুক্তিকে স্বাগত তুরস্ক ও কাতারের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:৫২, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৯, আগস্ট ১৮, ২০১৯

সুদানের ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের সঙ্গে দেশটির গণতন্ত্রপন্থীদের জোট এফএফসি-এর ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে তুরস্ক ও কাতার। ১৭ আগস্ট শনিবার রাজধানী খার্তুমে সামরিক কাউন্সিল এবং গণতন্ত্রপন্থীদের জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্চ (এফএফসি)-এর মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় ইথিওপিয়া ও মিসরের প্রধানমন্ত্রী, সাউথ সুদানের প্রেসিডেন্ট, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু, কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ আঞ্চলিক নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষমতা ভাগাভাগি চুক্তি তথা নির্বাচিত সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুদানের প্রতি তার দেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়ানো হবে।

খার্তুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। সুদানের ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিল ও দেশটির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি এরদোয়ানের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।

এদিকে এ চুক্তিতে উপনীত হওয়ায় সুদানের সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে কাতার। কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফ্রিকান ইউনিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ইথিওপিয়ার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। কাতার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সরকার পরিচালনায় একটি যৌথ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছে সুদানের জান্তা সরকার ও দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক জোট। সে অনুযায়ী, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে ছয়জন বেসামরিক প্রতিনিধি এবং পাঁচজন জেনারেলের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কাউন্সিল। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা যৌথ কাউন্সিলের মেয়াদ হবে তিন বছর তিন মাস। তারা মূলত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন একটি বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে।

২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। জ্বালানি ও রুটির দাম বৃদ্ধির এক সরকারি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। শুধু গত ৩ জুন একদিনেই বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযানে নিহত হন ৮৭ জন। আহত হন আরও ১৬৮ জন। ওমর আল বশির-কে উৎখাতে সেনাবাহিনীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো। গত জুনে সুদানের জান্তা সরকারের ধরপাকড় বন্ধে প্রভাব কাজে লাগাতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে দেশজুড়ে তীব্র গণআন্দোলন অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় উপনীত হয় জান্তা সরকার। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, গালফ টাইমস।

/এমপি/

লাইভ

টপ