জাকির নায়েক সীমা অতিক্রম করেছেন: মাহাথির মোহাম্মদ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:০৬, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৮, আগস্ট ১৮, ২০১৯

বিতর্কিত ধর্মপ্রচারক ও ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন বলে মন্তব্য করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। রবিবার তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েকের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সংখ্যালঘুদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে তিনি সীমা ছাড়িয়েছেন।’ মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া ইনসাইটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। অতীতে এই ইসলামি বক্তাকে মাহথির সমর্থন দিলেও এই প্রথম তিনি তার সমালোচনা করলেন।

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যুকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। সম্প্রতি জাকির নায়েক মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছেন। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা দেশটির চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করেন বেশি। তবে জাকির দাবি করেছেন, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুদের নিয়ে জাকিরের এই মন্তব্যের জেরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। এখন এই তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে সরকার। তদন্তে সত্যতা পেলে তাকে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হবে। নাজিব রাজাকের বিগত সরকার জাকির নায়েককে স্থায়ী আবাসিকতার অনুমোদন দেয়। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জাকির নায়েক সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়া চেষ্টা করেছেন ‘এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার’।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে কে প্রথমে স্থায়ী আবাসিকতা দিয়েছেন, তা আমি জানি না। তবে তিনি স্থায়ী আবাসিক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন না। তিনি ইসলাম নিয়ে কথা বলতে পারেন, ধর্ম প্রচার করতে পারেন। তবে চীনাদের ফেরত পাঠাতে বলে তিনি যা (রাজনীতি নিয়ে খেলা) করেছেন, এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, তিনি জাতিগত রাজনীতি নিয়ে খেলতে চান।’

এদিকে, মালয়েশিয়ার রাজ্য পারলিসের পর জাকির নায়েকের প্রকাশ্য বক্তৃতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেদাহ রাজ্য কর্তৃপক্ষ। এই সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর আগে জাকির নায়েকের ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’র জন্য ১৬-১৮ আগস্টে মালয়েশিয়ার একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে বাধা দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে দুই মন্ত্রী প্রস্তাব দেন, জাকির নায়েকের উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে উদ্ধৃত করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বার্নামা মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, ভারতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকায় জাকির নায়েককে হয়তো সেখানে ফেরত পাঠানো হবে না। যদি অন্য কোনও দেশ তাকে নিতে চায় তাহলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

/এইচকে/এএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ