মালয়েশিয়ার আরেক রাজ্যে জাকির নায়েকের ভাষণে নিষেধাজ্ঞা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৩৮, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৬, আগস্ট ১৮, ২০১৯

মালয়েশিয়ার রাজ্য পারলিসের পর বিতর্কিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের প্রকাশ্য ভাষণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেদাহ রাজ্য কর্তৃপক্ষ। এর আগে জাকির নায়েকের ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’র জন্য ১৬-১৮ আগস্টে পারলিসের একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে বাধা দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। মালেয়শীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

জাকির নায়েক

কেদাহ রাজ্যের ধর্ম বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইসমাইল সালেহ জানান, জাকির নায়েককে এই রাজ্যে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে তিনি কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন না। এ রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব কিছুর আগে প্রধান্য দেওয়া হবে।

মালয় ডেইলির প্রতিবেদন জানিয়েছে ইসমাইল বলেছেন,  ‘আগুনে জ্বালানি সংযুক্ত করবেন না। আমাদের যে ঐক্য আছে, তা ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, এপ্রিলে জাকির নায়েক উতারা মালয়েশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (উইউইএম) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সেখানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদানমূলক অনুষ্ঠানে তাকে অংশ নিতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তারা যদি জাকির নায়েককে দিয়ে ওই অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়াতো, আমরা তাকে সেখানে বাধা দিতে অবস্থান নিতাম।’

শুক্রবার পারলিসে জাকির নায়েকের যে কোনও বক্তব্য প্রদানের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এ রাজ্যের পুলিশ প্রধান নূর মুসার মোহদ। তিনি বলেন, জাকিরের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ ওঠায় এ রাজ্যে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে তাকে যোগ দিতে অনুমতি দেবে না পুলিশ প্রশাসন।

সম্প্রতি জাকির নায়েক মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা দেশটির চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে বেশি। তবে জাকির দাবি করেছেন, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুদের নিয়ে জাকিরের এই মন্তব্যের জেরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। এখন এই তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে সরকার। তদন্তে সত্যতা পেলে তাকে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হবে। নাজিব রাজাকের বিগত সরকার জাকির নায়েককে স্থায়ী আবাসিকতার অনুমোদন দেয়। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

 

 

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ