ছুরি ও এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাজ্য

Send
অদিতি খান্না, যুক্তরাজ্য
প্রকাশিত : ২২:১৭, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৯, আগস্ট ১৯, ২০১৯

যুক্তরাজ্য সরকার ছুরি ও এসিডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সহিংস অপরাধ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল একটি নতুন পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু করেছেন। যার ফলে যুক্তরাজ্যে আক্রমণের অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আসবে এবং আদালতকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। সরকারের আশা এর মধ্যদিয়ে ছুরি ও এসিডের মতো তরল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার ঠেকানো যাবে। এই পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু হওয়ার ফলে আদালত অপরাধ ঠেকাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ বা ভৌগলিক বিধিনিষেধ ও কারফিউ জারি করতে পারবে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সহিংস অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করছি। এসব অপরাধে ভুক্তভোগীদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সহিংসতার শিকার ব্যক্তির পরিবার ও আমাদের কমিউনিটিকেও তা স্পর্শ করে।

প্রীতি প্যাটেল আরও বলেন, আমাদের হামলার অস্ত্র আইন এসিড ও ছুরি হামলা ঠেকাবে। এই সরকার সব সময় পুলিশকে সহযোগিতা, সরঞ্জাম ও শক্তি দিয়ে যাবে যা তাদের প্রয়োজন। আগামী তিন বছরে ২০ হাজার নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদেরকে ক্ষমতা দেওয়া যে কাউকে থামিয়ে তল্লাশির।

বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন সরকার গত মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রীতি প্যাটেল। মন্ত্রিত্ব পেয়ে অপরাধ ঠেকাতে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত কয়েক বছরে লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এসিড হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরাধ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই কমিউনিটির তরুণরা ছুরির পরিবর্তে এসিডকেই হামলার অস্ত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছে সহজ প্রাপ্যতার কারণে। এর ফলে এই বছরের শুরুতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। এবার তা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বরিস প্রশাসন।

নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে থাকছে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে এসব সরঞ্জাম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া জনসমাগম স্থলে এসব বহনেও নিষেধাজ্ঞা থাকছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুসারে, ছুরি অপরাধ দমন আদেশ পুলিশকে তরুণদের গুরুতর সহিংসতা থেকে ঠেকাবে। এই আদেশ শাস্তিমূলক নয়, বরং প্রতিকারমূলক।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সহিংস অপরাধ টাস্ক ফোর্সের চিফ সুপার আডে আডেলেকান জানান, এই আইনকে সমর্থন জানাচ্ছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড।

 

/এএ/

লাইভ

টপ