ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপেও স্থান পেলো কাশ্মির ইস্যু

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:০২, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৬, আগস্ট ১৯, ২০১৯

কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের পর প্রথমবারের মতো টেলিফোনে আলাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের কয়েকদিনের মাথায় কথা বললেন মোদি। ৩০ মিনিট দীর্ঘ এ আলোচনায় কাশ্মিরসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় স্থান পেয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মির উপত্যকায় ভারতের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প-মোদি। এছাড়া ভারত-মার্কিন বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ও স্থান পেয়েছে তাদের আলোচনায়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় মোদি ট্রাম্পকে বলেছেন, ‘এই অঞ্চলের কিছু নেতার কার্যকলাপ ও বক্তব্য ভারতবিরোধী। যা শান্তি বজায় রাখার সহায়ক না।’

নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সহিংসতা ও সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে আপোষহীনতার কথা জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে কাশ্মির। মোবাইল-ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে সেখানকার জনশূন্য রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র সেনারা। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাসসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় দূতকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। স্থগিত করা হয়েছে সব বাণিজ্য চুক্তি ও পরিবহন যোগাযোগ।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরান খানের বৈঠকের এক মাসের মাথায় শুক্রবার ফোনে কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিডলে এক বিবৃতিতে বলেন, দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও বাড়িয়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মির ইস্যু নিয়ে আলোচনার আগ মুহূর্তে দুই নেতার মধ্যে এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি। তিনি বলেন, কাশ্মির পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের অবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরান খান।

কাশ্মিরের ইস্যুটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার আহ্বান জানায় পাকিস্তান। কিন্তু এতে নিরাপত্তা পরিষদ রাজি না হলে চীন পুনরায় আলোচনার প্রস্তাব করে। অবশেষে নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়। ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক কাশ্মির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো। পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে বেশিরভাগ সদস্যই কাশ্মির সংকটকে ভারত ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। তবে শাহ কোরেশি দাবি করেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মির নিয়ে সফল আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর পর নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মির নিয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত যখন এর বিরোধিতা করে যাচ্ছে তখন এটা আশাব্যঞ্জক।

কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং হুমকির সুরে বলেছেন, ‘পরমাণু শক্তির আগে প্রয়োগ ভারতের নীতি নয়। কিন্তু প্রয়োজনে তা থেকে বেরিয়ে আসতেও হতে পারে।’ পরে রবিবার রবিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘এবার আর কাশ্মির নিয়ে আলোচনা নয়। বৈঠক হবে কেবল পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মির নিয়ে।'

এর আগে ইমরান খানকে পাশে বসিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাকে কাশ্মির সমাধানের মধ্যস্থতাকারী হতে অনুরোধ করেছেন। যা অস্বীকার করে ভারত।

 

/এএ/

লাইভ

টপ