সামাজিক মাধ্যমেও কথা বলতে পারবেন না জাকির নায়েক

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:২৪, আগস্ট ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩২, আগস্ট ২১, ২০১৯

মালয়েশিয়াজুড়ে সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়ার পর এবার সামাজিক মাধ্যমেও কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে বিতর্কিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে। বুধবার দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শক দাতুক সেরি আব্দুল হামিদ বলেন, সামাজিক মাধ্যমসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকেই সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে জাকির নায়েককে।

ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে। ইতোমধ্যে মালায়েশিয়ায় যেকোনও ধরনের সমাবেশে বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার।

পুলিশ মহাপরির্দশক বলেন, কেলানতানের ঘটনা পর যেকোনও ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জাকির নায়েককে। বিষয়টি নিয়ে যেন আমরা পূর্ণ তদন্ত সম্পন্ন করতে পারি সে লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন প্রত্যেক রাজ্যের পুলিশ প্রধান জাকির নায়েকের বক্তব্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিষয়গুলো দেখবে।  

আইজিপি বলেন, কেলানতানের ঘটনার পর জনমনে দ্বিধা ও অস্বস্তি কাজ করছে। বিষয়টি সমূলে বের করে আনতে পুলিশের সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘যা হয়েছে হুবুহু তাই বের করতে চাই আমরা। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ী ও সাময়িক বলেও মনে করিয়ে দেন পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে এই নির্দেশনা এসেছে। এটি অস্থায়ী। তবে পরিস্থিতির যদি পরিবর্তন না হয় তবে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক দাতুক সেরি বলেন, এটা স্পষ্ট যে আমরা এমন ধর্মীয় বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিষয় চাইছি না। রাজনৈতিক বিষয়ে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়। সেটা জাতীয় পর্যায় হোক কিংবা আন্তর্জাতিক।

রবিবার মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, চীনাদের ফিরে যেতে বলে ড. জাকির সীমা অতিক্রম করেছেন। মালয়েশীয় ভারতীয়দের নিয়ে তার মন্তব্যও অগ্রহণযোগ্য।

ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মাহাথির এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এ বছর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেও মাহাথির বলেছিলেন, ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে জুলাইয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলাপকালে ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির বলেছেন, ‘আমাদের দেশ মালয়েশিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের ও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে। আমরা এমন কাউকে চাই না যাদের বর্ণগত সম্পর্ক ও অন্য ধর্ম সম্পর্কে কট্টর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে জাকির নায়েককে আবার অন্য কোথাও পাঠানো কঠিন। কারণ, অনেক দেশই তাকে রাখতে চায় না।’

 

/এমএইচ/

লাইভ

টপ