মোদি সরকারের পদক্ষেপ কাশ্মিরের উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে: মার্কিন আইনপ্রণেতা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৩৮, আগস্ট ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৮, আগস্ট ২২, ২০১৯

কাশ্মিরে ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একজন মার্কিন আইনপ্রণেতা বলেছেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সিদ্ধান্ত কাশ্মিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। আরোপিত কারফিউ প্রত্যাহার করে নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পার্লামেন্টের আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্মিথ। আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্বকে জানতে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। কাশ্মিরে আটকা পড়া পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ভারতীয় দূতের সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান রিপাবলিকান দলের ওই আইন প্রণেতা। কাশ্মির প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশকেই সংযত আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।মার্কিন পার্লামেন্টের আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্মিথ

গত ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় দিল্লি। এর আগে থেকেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে দুনিয়ার ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মির উপত্যকাকে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। আর দুই দেশের এই বিরোধে মধ্যস্ততার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অবরুদ্ধে কাশ্মিরে আটকা পড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ভারতীয় দূত হংস বর্ধন শ্রীংলার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মার্কিন পার্লামেন্টের আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্মিথ। পরে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভারতের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মিরের মৌলিক মানবাধিকার ও সমানাধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে আমি প্রতিশ্রুতিশীল’। তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছি। চলমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, সামরিকায়ন বৃদ্ধি এবং কারফিউ জারি নিয়ে সেখানকার উদ্বেগ যথার্থ।

স্মিথের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেসব মানুষদের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করেছি তাদের সবার পরিবার জম্মু ও কাশ্মিরে রয়েছে। ভারতীয় নীতি পরিবর্তনের পর কেউ কেউ সেখানে সফর করেছেন। তারা নিজেদের জীবন নিয়ে যেমন শঙ্কায় আছেন তেমনি সেখানে থাকা পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিয়েও উদ্বিগ্ন। তার এমন এক অঞ্চল দেখেছেন যেখানকার বাসিন্দারা বিচ্ছিন্ন আর বাইরের সব মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে অক্ষম। এই ভীতি নিরসনে ভারত সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে আর সেখানে যা ঘটছে তা আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিশ্বকে দেখার সুযোগ করে দিতে হবে’।

ওই অঞ্চলের মুসলমান জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গ্রুপগুলোর মৌলিক মানবাধিকার ও সমানাধিকারের প্রতিশ্রুতির সুরক্ষার পাশাপাশি বর্তমান ও ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের (স্বায়ত্তশাসন বাতিল) সম্ভাব্য পরোক্ষ প্রভাবের মারাত্মক ফলাফল সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদির সরকারকে সতর্ক করেন তিনি। ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গে স্মিথ তার বিবৃতিতে বলেন, ‘এই নীতিগত সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে যোগাযোগ চ্যানেল উন্মুক্ত রাখতে রাখার পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানকে উগ্রবাদী মতাদর্শ উৎসাহিত করার মতো বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি’।

 

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ