যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে ‘অলস বসে থাকবে না’ চীন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:১৩, আগস্ট ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৬, আগস্ট ২৩, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অত্যাধুনিক এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চাইলে চীন ‘অলস বসে থাকবে না’ বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন বেইজিংয়ের এক সামরিক কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার বেইজিং-এর সামরিক বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির ওয়ার স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মেজর জেনারেল চেন রংডি এই মন্তব্য করেছেন। এর পাশাপাশি চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

মেজর জেনারেল চেন রংডি বলেন, তাইওয়ানের কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রয় চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন বলে মনে করে চীন।  তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগে চীনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাইওয়ানকে বেইজিং-এর অঞ্চল বিবেচনা করবে তারা। আর প্রয়োজন পড়লে জোর করে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারবে।

বৃহস্পতিবার চীনের সরকারি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সম্মেলনে জেনারেল চেন রংডি বলেন, চীন অবশ্যই অলস বসে থাকবে না। অবশ্যই আমরা অতিরিক্ত ব্যবস্থার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারি না।

চীন বারবারই বলেছে, আটশো কোটি ডলারের এই যুদ্ধবিমান বিক্রয় পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের কাছে এই চুক্তি বাতিলের দাবিও করেছে তারা। অতীতেও অস্ত্র বিক্রির সময়েও এ ধরণের হুমকি দিয়েছে চীন। তবে তার প্রভাব পড়েছে খুবই সামান্য। কারণ এসব কোম্পানিগুলো চীনের ক্রমবর্ধমান অ্যাভিয়েশন শিল্পের জন্য আমদানিতে জড়িত ছিল।

গত জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের ট্যাংক এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির কথা বিবেচনা করছে বলে জানানোর পর অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের চূড়ান্ত কার্যকারিতা উড়িয়ে দেন জেনারেল রংডি চেন। একই মনোভাব পোষণ করেন ওয়ার স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো কর্নেল চাও ইয়াংজোং। তাদের মতে, চীনের দুর্বার আকাশ শ্রেষ্ঠত্ব এবং স্বল্প ও মধ্য পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে এই যুদ্ধবিমান চূড়ান্ত কার্যকারিতা পাবে না।

কর্নেল চাও ইয়াংজোং বলেন, এই বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার অস্ত্র প্রস্তুতকারীদের লাভ এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-তাইওয়ানের সম্পর্কের আরও অবনতি করা ছাড়া অন্য কোনও কাজে আসবে না।

তাইওয়ানের কাছে সবধরণের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে চীন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এফ-১৬ভি এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানান, তারা তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি বিমান বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন। আর এই সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিক্রি অনুমোদন করেছে। এই বিষয়ে এখন কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেবে। সেখানে দুই দলের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়ে আসছে তাইওয়ান।

প্রসঙ্গত, চীন-তাইওয়ান বিরোধের সূত্রপাত ১৯২৭ সালে। ওই সময়ে চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ।  ১৯৪৯ সালে  মাও জে দংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা জাতীয়তাবাদী সরকারকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে তাইওয়ান যান। এখনও তারাই তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে ওই সময় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে পড়লেও উভয় দেশই নিজেদের চীনের দাবিদার হিসেবে উত্থাপন শুরু করে। তাইওয়ানভিত্তিক সরকার দাবি করে, চীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল হয়েছে। আর বেইজিংভিত্তিক চীনের সরকার তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্নতাকামী প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে।

 

/এমএইচ/জেজে/এএ/

লাইভ

টপ