অ্যামাজনে আগুন: হুমকিতে ইউরোপের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:৫২, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৪, আগস্ট ২৪, ২০১৯

তিন সপ্তাহ ধরে জ্বলছে ‘দুনিয়ার ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে সেখানকার সাত হাজার ৭৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। অথ্চ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি এই জঙ্গলে। আর এখন সেখানে মিনিটে পুড়ছে ১০ হাজার বর্গমিটার এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে সমগ্র বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন তখন ট্রাম্প-ভক্ত হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো-র বিস্ফোরক মন্তব্যে হতবাক সমগ্র বিশ্ব। তিনি বলেছেন, আমাজনের আগুন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ফলে এটি নিয়ে কারও নাক গলানো তিনি সহ্য করবেন না। তার এমন মন্তব্য এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে জোরালো উদ্যোগ না নেওয়ার জেরে হুমকিতে পড়েছে ইউরোপের সঙ্গে ব্রাজিল তথা দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি।
অ্যামাজানের আগুন নেভাতে ব্রাজিল আরও উদ্যোগী না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা ব্লকের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি আটকে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড। ইইউ-এর সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার এ চুক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি। এতে দক্ষিণ আমেরিকা ব্লকে ব্রাজিল ছাড়া বাকী দেশগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনা, প্যরাগুয়ে এবং উরুগুয়ে। দীর্ঘ ২০ বছরের আলোচনায় এ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর চুক্তিটি এখনো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে অ্যামাজনের আগুন নেভাতে ব্রাজিলের ভূমিকায় হতাশা নিয়ে চুক্তিটিতে অনুমোদন না দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ফ্রান্স এবং আয়ারল্যান্ড। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য জার্মানিও অ্যামাজনের আগুন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, এ আগুন শুধু ব্রাজিল ও আক্রান্ত দেশগুলোর জন্যই নয়; বরং পুরো দুনিয়ার জন্য হুমকি।

আগুন নেভাতে ব্রাজিল সরকারের জোরালো তৎপরতা না থাকার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশটির দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন পরিবেশ অধিকারকর্মীরা। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী সরকার কথিত উন্নয়নের নামে দৃশ্যত বন উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছে। আর তার ফলশ্রুতিতেই পুড়ছে দুনিয়ার ফুসফুস খ্যাত অ্যামাজন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এটি অবশ্যই একটি আন্তর্জাতিক সংকট। টুইটারে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমাদের ঘর পুড়ছে যা দুনিয়ার ২০ শতাংশ অক্সিজেনের যোগান দেয়। এটিকে আসন্ন জি-৭ সম্মেলনের শীর্ষ এজেন্ডা হিসেবে রাখা উচিত।

ইইউ কাউন্সিলের বর্তমান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছে ফিনল্যান্ড। অ্যামাজনে আগুন না নেভা পর্যন্ত ব্রাজিল থেকে গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধের চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

দুনিয়াজুড়ে প্রতিবাদের মুখে শুক্রবার অবশ্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনসহ নানা বিকল্প নিয়ে তিনি চিন্তাভাবনা করছেন।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি অ্যামাজনে। গবেষকদের মতে এই বন প্রতিবছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ডাকা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে অ্যামাজনের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বিশ্বের দীর্ঘতম এ জঙ্গলটি আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, অ্যামাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই আগুন লাগানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে। অঞ্চলটিকে ঘিরে করা কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কথিত উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য কৃষির বিস্তৃতি, বৈধ ও অবৈধ খনি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের জন্য ঘটছে অরণ্য বিনাশ। গড়ে উঠছে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত প্রকল্প। গত কয়েক দিনের আগুন কথিত উন্নয়নের জন্য অরণ্য বিনাশের গতিকেই জোরদার করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

/এমপি/

লাইভ

টপ