অ্যামাজনে আগুনের নেপথ্যে বিশ্বব্যাপী গরুর মাংসের চাহিদা?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:০১, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৬, আগস্ট ২৪, ২০১৯

বিশ্বে গরুর মাংসের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ ব্রাজিল। মার্কিন কৃষি দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি থেকে। সামনের বছরগুলোতে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি ব্রাজিলের অ্যামাজন বনাঞ্চলে যে আগুন জ্বলছে তার বেশিরভাগই লাগাচ্ছে কাঠুরে ও পশুপালকেরা। গবাদি পশুর চারণভূমি পরিষ্কার করতে এসব আগুন লাগানো হচ্ছে। আর এতে উৎসাহ যোগাচ্ছেন দেশটির বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। ব্রাজিলের গরুর মাংস উৎপাদনকারী কৃষকদের কাছে এটা স্বাভাবিক বাণিজ্য হলেও বাকি বিশ্ব এটাকে আতঙ্ক হিসেবে দেখছে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যামাজন বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর ঘটনায় ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় দেশটি থেকে গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ফিনল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্রাজিলের গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করার কথা দ্রুত ভাবার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ব্রাজিলের এই শিল্প সম্প্রসারণে গত জুনে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাতিল করার চিন্তার কথা জানিয়েছে আয়ারল্যান্ড।

 


 

গত বছর ব্রাজিল প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার টন গরুর মাংস রফতানি করে। দেশটির রফতানি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ গরুর মাংস বিক্রির মাধ্যমে ৬৫৭ কোটি মার্কিন ডলার আয় করে বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের গরুর মাংস রফতানিকারকদের অ্যাসোসিয়েশন- অ্যাবিয়েক। এই অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় রয়েছে ৩০টিরও বেশি গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত কোম্পানি। এশিয়ার বাজারে ব্রাজিলের গরুর মাংসের চাহিদা বাড়তে থাকায় ফেঁপে উঠছে ব্রাজিলের গরুর মাংস শিল্প। চীন ও হংকং-এ তাদের চাহিদা বাড়ছে। মার্কিন তথ্য অনুযায়ী এই বাজার দুটি ২০১৮ সালে ব্রাজিলের মোট গরুর মাংস রফতানির ৪৪ শতাংশ আমদানি করে।

গত জুনে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর জোট মার্কোসার এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কোসার ব্লকের সদস্য হিসেবে ব্রাজিলের গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণার পর অ্যাবিয়েক-এর প্রধান অ্যান্তোনিও কামারডেলি বলেন, এর মাধ্যমে  ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো নতুন সমৃদ্ধ বাজার পেতে পারে ব্রাজিল। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিদ্যমান সহযোগিদের কাছে বিক্রিও জোরালো হবে। এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে গরুর মাংস রফতানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ কর ছাড় পাবে ব্রাজিল।

তবে শুক্রবার আয়ারল্যান্ড জানিয়েছে, ব্রাজিল অ্যামাজনে ব্যবস্থা না নিলে তারা এই চুক্তি ঠেকানোর প্রস্তুতি নেবে। এক বিবৃতিতে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার বলেন, ব্রাজিলের পরিবেশবাদী কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে মার্কোসার চুক্তি বাতিল করা হবে কিনা সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আয়ারল্যান্ড । তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড ও ইউরোপীয় কৃষকদের জীববৈচিত্র রক্ষার কথা বলে এমন দেশের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না যারা পরিবেশ, শ্রমিক ও পণ্যের মানের বিষয়ে শোভন আচরন করে না। এদিকে শুক্রবার ফিনল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী অ্যামাজনে আগুনের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্রাজিলের গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা দ্রুত খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

চুক্তি কার্যকর হোক বা না হোক ব্রাজিলের গরুর মাংস শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)। সংস্থাটির মতে প্রাকৃতিক সম্পদ, তৃণভূমির প্রাচুর্য্যতা আর বৈশ্বিক চাহিদার কারণে এই সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে।

আর এই সম্প্রসারণের কারণে মাত্রারিক্ত পরিবেশগত মূল্য দিতে হচ্ছে। ব্রাজিলের স্পেস রিসার্চ সেন্টার (আইএনপিই) জানিয়েছে গত বছরের চেয়ে এবছর অ্যামাজন অঞ্চলে আগুনের ঘটনা ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানে বিপর্যয় ঘটতে পারে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আইএনপিই-এর সিনিয়র বিজ্ঞানী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন ছোট পরিসরে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষিবাণিজ্য প্রজেক্টের জন্যও আগুন লাগানো হচ্ছে।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ