কাশ্মিরে ঢুকতে দেওয়া হলো না রাহুল গান্ধীকে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৫১, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫১, আগস্ট ২৪, ২০১৯

জম্মু-কাশ্মিরে ঢুকতে চেয়েও পারলেন না কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী ও দেশটির বিরোধী দলগুলোর আরও ১১জন নেতা। শনিবার শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছালেও তাদের সেখান থেকেই দিল্লিতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আগেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাহুলকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হবে না।  

৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা।  গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে। মিডিয়া কার্যত অকার্যকর হয়ে রয়েছে। মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হলেও রাষ্ট্র তা স্বীকার করছে না। 

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিরোধী নেতাদের নিয়ে শনিবার সকালে রাহুল গান্ধী দিল্লি থেকে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেয়া হবে না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। পরে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

কাশ্মীর সফরে যাওয়া সর্বদলীয় প্রতিনিধির মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস, সিপিআই(এম), সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে’র সদস্যরা। সফরে রাহুল ছাড়াও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা গোলাম নবী আজাদ ও আনন্দ শর্মাও ছিলেন। এর আগেও গোলাম নবী আজাদ দুইবার কাশ্মিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তিনি এ চেষ্টা করেছিলেন।

জম্মু-কাশ্মিরের তথ্য এবং জনসংযোগ অধিদফতর এক টুইটে জানায়, আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও হামলা থেকে যখন সরকার জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণকে রক্ষায় চেষ্টা করছে, তখন রাজনৈতিক নেতারা সেখানে সফরে গেলে অন্যান্য লোকজন অসুবিধায় পড়ে যাবেন। উপত্যকার স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের পর রাহুল বলেছিলেন, তিনি সেখানে সংঘর্ষ এবং বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাচ্ছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মিরের গভর্নর সত্য পাল মালিক তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

গভর্নরের আমন্ত্রণ পাওয়ার দুই দিন পর রাহুল তা গ্রহণ করেন। কিন্তু ততোক্ষণে গভর্নর তার মত বদলে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেন এবং রাহুলের ভ্রমণের উপর কিছু শর্ত আরোপ করে বিবৃতি দেন। মালিক তার বিবৃতিতে বলেন, রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের আনতে চেয়ে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছেন। যা আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং এখানে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়তে পারেন।

শনিবার সকালে গোলাম নবী আজাদ বলেন, আমরা সব দায়িত্বশীল দল ও তাদের নেতারা কোনও আইন ভাঙতে যাচ্ছি না। জম্মু ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। গত ২০ দিন ধরে সেখানে অচলাবস্থা চলছে। সরকার বলছে-পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু তারা কোনও রাজনৈতিক নেতাকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না। এই কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, এতে কোনও বৈপরীত্য নেই? যদি কাশ্মির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তবে আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না কেন?

/বিএ/

লাইভ

টপ