ফ্রান্সে জি সেভেন সম্মেলনে বিশ্বনেতারা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:২৪, আগস্ট ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৭, আগস্ট ২৫, ২০১৯

ফ্রান্সের বিয়ারিৎস শহরে শনিবার শুরু হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি সেভেন-এর ৪৫তম সম্মেলন। তিন দিনের এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও স্বাগতিক ফ্রান্সের নেতারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।ফাইল ছবি
এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য যুদ্ধ, অ্যামাজনের আগুন ও জলবায়ু ইস্যু প্রাধান্য পাবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে সম্মেলন নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি অস্বস্তি রয়েছে। আর এমন অস্বস্তির কেন্দ্রে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেননা, ২০১৭ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন থেকে আগেভাগেই চলে গিয়েছিলেন তিনি। এবারও যে এমন কিছু ঘটবে না; তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, এবারের সম্মেলনে জি সেভেন জোটে ফের রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাতে পারেন ট্রাম্প। এমন আশঙ্কা থেকে আগেভাগেই ট্রাম্পকে নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। তিনি বলেন, গত বছরই তারা বুঝতে পেরেছেন যে, অভিন্ন মতাদর্শ খুঁজে পাওয়া ক্রমান্বয়ে কঠিন হয়ে পড়ছে।

জি সেভেন-এর পূর্বনাম ছিল জি এইট। রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখলের পর ২০১৪ সালে সংগঠনটি থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর এটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। তবে ইতোপূর্বে রাশিয়াকে ফের জি সেভেন-এর অন্তর্ভুক্ত করার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প; তাতে কোনওভাবেই রাজি না হওয়ার কথাও জানান ডোনাল্ড টাস্ক।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে তার অন্যতম লক্ষ্য সব নেতাদের এটা বোঝানো যে, পারস্পরিক উত্তেজনা, বিশেষ করে বাণিজ্য সংকট, সব দেশের জন্যই ক্ষতিকর।

প্রতি বছরের মতোই এবারও সম্মেলনস্থলের বাইরে জড়ো হয়েছেন প্রতিবাদকারীরা। বিয়ারিৎসের পাশের শহর হেনদায়েতে জি-সেভেনের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক ও পরিবেশ নীতি পাল্টানোর দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে আওয়াজ তুলেছেন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা।

বাণিজ্য সংকটের কেন্দ্রে ট্রাম্প: 

জি-সেভেন সম্মেলনে যোগ দিতে বিমানে উঠার ঠিক আগেই ফ্রান্সকে হুমকি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ডিজিটাল কর বসানোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি ওয়াইনের ওপর নতুন কর বসানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। ইউরোপিয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট টাস্ক অবশ্য দ্রুত ট্রাম্পের এমন হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ‘হুমকি বাস্তবায়ন করলে', ইইউ-ও একই ধরনের ‘পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত।'

অ্যামাজন নিয়ে সরব ম্যাক্রোঁ: 

এবারের জি সেভেন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে অ্যামাজন জঙ্গলের আগুন একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইইউ-এর সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, আগুন থামাতে এবং পুনরায় বনায়নে শুধু আহ্বানই জানানো হবে না। বরং আমাজোনিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে সঙ্গে নিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে।

ম্যাক্রোঁর এমন অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও। তবে সম্মেলনে এ নিয়ে আলোচনা করতে চাইলেও ব্রাজিল-ইইউ মেরকসুর চুক্তি বাতিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ম্যার্কেল। এক ভিডিও বার্তায় জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সহায়তার চেষ্টা করবো। স্পষ্ট বার্তা জানাবো যে, রেইনফরেস্টটিকে বাঁচাতে সাধ্যের সবকিছুই করতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা, ডয়চে ভেলে।

/এমপি/

লাইভ

টপ