ভারতের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের ডাক কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী নেতার

ভারতের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের ডাক কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী নেতার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:৩৩, আগস্ট ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৬, আগস্ট ২৫, ২০১৯

ভারতের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হুররিয়ত কনফারেন্সের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি। গৃহবন্দি অবস্থা থেকে এক বিবৃতিতে কাশ্মিরের জনগণের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন ৮৯ বছরের এ রাজনীতিক।
সৈয়দ আলী শাহ গিলানি বলেন, জম্মু-কাশ্মিরের জনগণের কাছে আমাদের আন্তরিক আবেদন, এই সংকটময় মুহুর্তে আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী, আমাদের সবারই এই প্রতিরোধে অংশ নেওয়া উচিত। জনগণের উচিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজন করা এবং নিজ নিজ এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন।

ভারত সরকার কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে ফেলার পর থেকেই গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন হুররিয়ত নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি।

এদিকে কাশ্মিরে গণহত্যা থেকে বিরত থাকতে ভারতকে সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছে ‘জেনোসাইড ওয়াচ’ নামের একটি সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওই গণহত্যা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও এর সদস্য দেশগুলোকে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গ্রেগরি এইচ স্ট্যান্টন ইতোমধ্যেই সংঘটিত ৭টি ঘটনার পাশাপাশি আরও ১০টি সম্ভাব্যতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এই সতর্কতা জারির আহ্বান জানিয়েছেন।

জেনোসাইড ওয়াচ বিশ্বে গণহত্যা প্রতিরোধ, নিরসন ও এ সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির লক্ষ্যে কাজ করে। পাশাপাশি সম্ভাব্য গণহত্যা এবং সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করে সংস্থাটি। তাদের প্রধান উদ্দেশ্যে বিশ্বে গণহত্যা বন্ধ করা।

কাশ্মিরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কাশ্মিরের হিন্দু মহারাজা স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। তবে যখন পাকিস্তানের পশতুন মিলিশিয়ারা আক্রমণ করে, তখন মহারাজা ভারত ইউনিয়নে কাশ্মিরকে যুক্ত করেন। তখন সেখানে সেনা পাঠায় ভারত। পাকিস্তানি ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে যুদ্ধ সংগঠিত হয়। পাকিস্তানের সঙ্গে এই বিরোধ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলে ভারত। ১৯৪৮ সালে পাস হওয়া এ সংক্রান্ত এক সনদে জম্মু-কাশ্মির থেকে ভারতীয় সেনা হ্রাস ও পাকিস্তানি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এতে জম্মু-কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে গণভোটেরও কথা ছিল। তবে কখনও সেখানে আর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। ভারত ও পাকিস্তান দুই পক্ষই কাশ্মিরের সার্বভৌমত্বের পুরোটাই দাবি করে। ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা’ বরাবর ভূখণ্ডকে দুই ভাগ করেছে তারা। স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত তিনবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে পরমাণু অস্ত্রধারী এই দুই দেশ।

১৯৮৪ সালে কাশ্মিরি মুসলিম যুবকরা সেখানকার ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের’ জন্য বিক্ষোভ শুরু করে। তখন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এ বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমন করে। কাশ্মিরে ১৯৮৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ৪০টি গণকবরে ২ হাজার ৭৩০টি মৃতদেহ সমাহিত করার প্রমাণ রয়েছে রাজ্যের মানবাধিকার কমিশনের কাছে। ৮ হাজারের অধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে সেখানে।

জম্মু-কাশ্মিরের সিভিল সোসাইটির জোট বলছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর হাতে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর দ্বারা কাশ্মিরি মুসলিমদেরকে গুম, নির্যাতন ও ধর্ষণ সাধারণ ব্যাপার।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। আর গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় তা। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। গ্রেফতার করা হয় স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাসহ চার হাজার মানুষকে। রাতের বেলায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে তরুণদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে।

/এমপি/

লাইভ

টপ