ভারতের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের চেয়েও ভালো: দাবি মন্ত্রীর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:২৬, আগস্ট ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৫, আগস্ট ২৫, ২০১৯

ভারতের অর্থনীতিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চেয়েও ভালো বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি ভারতের অর্থনীতির হাল আমেরিকা-চীনের তুলনায় ভালো? অর্থনীতিবিদদের যুক্তি, আমেরিকা বা চীনের অর্থনীতির বহর ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। মার্কিন অর্থনীতির বহর ভারতের দ্বিগুণ। চীনের আড়াইগুণেরও বেশি। তাই আমেরিকা-চীনের আর্থিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ভারতের তুলনা চলে না। তাদের সামান্য পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অঙ্কের হিসাবে ভারতের অনেকখানি আর্থিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি হতে পারে।

নির্মলা সীতারামনের দাবি, শুধু ভারতে নয়, মন্দার লক্ষণ দেখা দিয়েছে উন্নত দেশগুলোতেও। বস্তুত আন্তর্জাতিক বাজারের অর্থনীতির ছবি বেশ দুর্বল। কংগ্রেসের মতে, অর্থমন্ত্রী একই সুরে দুই রকম কথা বলছেন। একবার তিনি বলছেন দেশের অর্থনীতির হার সবচেয়ে ভালো। আবার বলছেন, অন্য দেশের মতো এ দেশেও মন্দা দেখা দিয়েছে।

কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘বাস্তবতা হচ্ছে, দেশ মন্দার সঙ্গে লড়াই করছে। দ্বিতীয় মোদি সরকার প্রথম বাজেটেরই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছে। এদিকে জিডিপির দোদুল্যমান দশা।’’

মোদি জমানার শুরুতে জিডিপি মাপার হিসাব বদলে দেওয়ার পরই দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার এক লাফে বেড়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে তখন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, আর্থিক প্রবৃদ্ধির হারে ভারত বিশ্বসেরা। নির্মলা বস্তুত সেই সুরেই আটকে রয়েছেন। অর্থনীতিবিদ প্রসেনজিৎ বসুর যুক্তি, আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে সবটা বোঝা যায় না। খুব ছোট দেশের প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি হয়। যেমন, ২০১৩ থেকে ২০১৭, এই পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধির গড় হার অনুযায়ী, গোটা বিশ্বে আর্থিক প্রবৃদ্ধির হারে এক নম্বরে ছিল দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দেশ নাউরু। যা কিনা বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এরপরে ইথিওপিয়া, আইভরি কোস্ট, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো। এসব দেশের অর্থনীতি কি নবম ও দশম অবস্থানে থাকা ভারত ও চীনের চেয়ে ভালো?

নির্মলা ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে তুলনা করে ভারত ও অন্যান্য উন্নত দেশের জিডিপির হিসাব দিয়েছেন। তার সঙ্গে প্রবৃদ্ধির হার তুলনা করে দেখিয়েছেন, আমেরিকা-চীনের তুলনায় ভারত অনেক এগিয়ে। বাস্তবতা হচ্ছে, ২০১৮-তে ভারতের অর্থনীতির বহর ছিল ১০.৫ লাখ কোটি ডলার। চীনের বহর তার আড়াইগুণের বেশি, ২৫.২ লাখ কোটি ডলার। আমেরিকার ২০ লাখ কোটি ডলার। এটা তাই স্পষ্ট, আমেরিকা-চীনের সঙ্গে ভারতের আর্থিক প্রবৃদ্ধির তুলনা চলে না। তাছাড়া শুধু জিডিপির হিসাবেই ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালে ভারত গোটা বিশ্বে ছয় থেকে সাত নম্বরে নেমে গিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫.৮ শতাংশ, যা পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন।
প্রসেনজিতের বক্তব্য, জিডিপির আয়তন দিয়ে আমজনতার কী লাভ? দেখতে হবে মাথাপিছু আয় কত! আইএমএফের ২০১৮-এর তথ্য বলছে, মাথাপিছু আয়ে ভারত রয়েছে ১৮৭টি দেশের মধ্যে ১১৯ নম্বরে। সূত্র: আনন্দবাজার।

/এমপি/এমওএফ/

লাইভ

টপ