অবশেষে অ্যামাজনের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের ইঙ্গিত ব্রাজিলের

অবশেষে অ্যামাজনের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের ইঙ্গিত ব্রাজিলের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:১৫, আগস্ট ২৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৬, আগস্ট ২৮, ২০১৯

অবশেষে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত অ্যামাজন জঙ্গলের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও এর সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে ব্রাজিল। একই ইস্যুতে জি সেভেন-এর ২০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রত্যাখানের একদিনের মাথায় নতুন এ ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। তবে তার দাবি, আন্তর্জাতিক দাতাদের দেওয়া তহবিল পরিচালনা করবে তার সরকার এবং সে সক্ষমতা তাদের রয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ওটাভিও রেগো ব্যারোস বলসোনারো-র এমন মনোভাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
২৭ আগস্ট অ্যামাজনের সুরক্ষায় জি সেভেন দেশগুলোর ২০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় ব্রাজিল সরকার। তখন দেশটির মন্ত্রীরা জানান, ব্রাজিলের এই সহায়তা দরকার নেই। এটা দিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো অ্যামাজনের নিয়ন্ত্রণ চাইছে। তবে এখন ওই সহায়তা গ্রহণের ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এমনটাই জানিয়েছেন তার মুখপাত্র।

১৫ আগস্ট থেকে জ্বলছে ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। এরমধ্যেই গত বৃহস্পতি থেকে শুক্রবারের মধ্যে নতুন করে অ্যামাজনের এক হাজার ২০০টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে ছয়টি রাজ্য। বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ রকমের আগুনের কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। এসব রাজ্যের কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাইছে। সেনা সহায়তা চাওয়া রাজ্যগুলো হচ্ছে পারা, রন্ডোনিয়া, রোরাইমা, টোকানটিন্স, একর এবং ম্যাটো গ্রোসো। এরমধ্যে রন্ডোনিয়া প্রদেশে ইতোমধ্যেই সামরিক বাহিনীর বিমান থেকে পানি ঢালার কাজ শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৬ আগস্ট) জি- সেভেন সম্মেলনের আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, তারা অ্যামজনের সুরক্ষায় ২০ মিলিয়ন ডলার তহবিল দেবেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮৬ কোটি টাকারও বেশি। তখন এর জবাবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ অনিক্স লোরেনি বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ। তবে এই অর্থ আসলে ইউরোপের বনায়নে ব্যয় করাই বেশি ভালো হবে।’

অ্যামাজনের আগুন নেভাতে অফার করা তহবিল নাকচ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট। পরে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি কি ওটা (আগুন নেভানোর তহবিল নাকচ করে দেওয়া) বলেছিলাম?’

তিনি আরও বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাকে যে অপমান করেছেন, তা প্রত্যাহারের পর তিনি এই সহায়তা প্রস্তাবের জবাব দেবেন। বাণিজ্য আলোচনার সময় জলবায়ু প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তাকে ‘মিথ্যা’ বলেছিলেন বলে বলসোনারোকে অভিযুক্ত করেছেন ম্যাক্রোঁ।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ অনিক্স লোরেনি বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন নটরডেম গির্জার আগুন নিয়েই কিছু করতে পারেননি ম্যাক্রোঁ। আর তিনি আমাদের শিক্ষা দিতে এসেছেন!’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্নেস্টো আরাউজো বলেছিলেন, বন উজাড়ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিয়ম মেনেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, পরিবেশ নিয়ে সাজানো সংকটের মাধ্যমে অ্যামাজন নিয়ন্ত্রণে বহির্বিশ্বের চেষ্টা খুবই দৃশ্যমান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রাজিলে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুতত্ত্ব বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়াদভিন্দার মাহি বলেন, ব্রাজিলের পরিবেশ সংস্থায় তহবিল বরাদ্দ এ বছরই ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ থেমে গেছে। তাই অ্যামজনের পরিবর্তনে আসলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে; যা নতুন সরকারের মেয়াদে সংঘটিত হচ্ছে।’

/এইচকে/এমপি/

লাইভ

টপ