হংকং-এর প্রধান নির্বাহীর প্রতি দৃঢ় সমর্থনের ঘোষণা চীনের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৫৬, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৯, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

চীনের নিয়োগপ্রাপ্ত হংকং-এর প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার চীন সরকারের হংকং ও ম্যাকাও বিষয়ক মুখপাত্র ইয়াং গুয়াং এ ঘোষণা দিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইট টাইমস।
চীন সরকারের মুখপাত্র এমন সময়ে এ ঘোষণা দিলেন যখন হংকং-এর প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডিং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে  পড়েছে। ওই রেকর্ডিংয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, সুযোগ থাকলে আমি পদত্যাগ করতাম। প্রথমে ক্ষমা চেয়ে তারপর পদত্যাগ করতাম।

ইয়াং গুয়াং বলেন, হংকং-এর প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের প্রতি আমরা দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করছি।

এদিকে কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার  মধ্যেই সম্প্রতি হংকং-এর অভ্যন্তরে চীনের বেশ কিছু সামরিক যানের চলাফেরা পরিলক্ষিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে এসব যান চলাচল করতে দেখার খবর সামনে আসার পর চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া দাবি করেছে,  বার্ষিক নিয়মিত রুটিনের অংশ হিসেবে হংকং সেনানিবাসের এসব যান চলাচল করেছে। সিনহুয়ায় প্রকাশিত খবরে সাঁজোয়া বাহন ও ট্রাকে করে সেনাসদস্যদের চলাচলের পাশাপাশি নৌবাহিনীর একটি জাহাজকে হংকং-এ প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সামরিক যানের এই গতিবিধি ওই অঞ্চলে বেইজিং-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীদের ওপর বড় ধরণের ধরপাকড়ের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়ে আসছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। আগামী শনিবারও (৩১ আগস্ট) বড় ধরণের বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ওই অঞ্চলে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) চলাফেরা বিক্ষোভকারীদের ওপর বড় ধরণের ধরপাকড়ের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সেনা কর্তৃপক্ষ এই চলাফেরাকে নিয়মিত বার্ষিক চলাফেরার অংশ বললেও এর আগের দুটি একই ধরণের চলাফেরা হয়েছে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে। ওই সময়ে সিনহুয়ার খবরে চলাচল করা সেনা সদস্য ও সামরিক যানের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এবছরের প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে হংকং সীমান্তের দুই পাশের সেনানিবাসে আট থেকে দশ হাজার সেনাসদস্য রয়েছে।

/এমপি/

লাইভ

টপ