কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বচ্ছ তদন্তের তাগিদ যুক্তরাজ্যের

কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বচ্ছ তদন্তের তাগিদ যুক্তরাজ্যের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:৫২, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৩, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্তের তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে এ বিষয়ে তাগিদ দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এর আগে গত ৭ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক ফোনালাপে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যের কাশ্মিরি অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের এমপি স্টিভ বেকার-এর প্রশ্নের উত্তরে ডমিনিক রাব বলেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগের অবশ্যই ‘পূর্ণাঙ্গ, তাৎক্ষণিক ও স্বচ্ছ’ তদন্ত হওয়া উচিত। কাশ্মির সংকট ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় হলেও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। আমাদের প্রত্যাশা, ভারত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবে।

কাশ্মির সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, উপত্যকাটিতে লোকজনকে আটক করা, বাজে ব্যবহার এবং যোগাযোগ বিপর্যয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। দিল্লি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা শুধু প্রয়োজনের তাগিদে অস্থায়ীভাবে এসব ব্যবস্থা নিয়েছে।

ডমিনিক রাব বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তবে ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

উল্লেখ্য, পরমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই কাশ্মিরকে নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর দুই প্রতিবেশীর তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি সংঘটিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। এক সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে কাশ্মিরকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ভারতের শাসনে রয়েছে ৪৫ শতাংশ এলাকা আর পাকিস্তান শাসন করে ৩৫ শতাংশ অঞ্চল। আর বাকি অঞ্চল শাসন করে চীন। ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের নাগরিকেরা দেশটির সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে আসছিল। গত ৫ আগস্ট ওই অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মিরকে দুই টুকরো করার ঘোষণা দেয় ভারত। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় পৃথিবীর ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মির উপত্যকা। সেখানে কারফিউ জারি ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দিল্লি। অতিরিক্ত হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও অ্যাক্টিভিস্টসহ তিন সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। কাশ্মিরের কারাগারগুলো ভরে যাওয়ায় অনেককে রাজ্যের বাইরের কারাগারগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

/এমপি/

লাইভ

টপ