হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের টার্গেট বিমানবন্দর, সতর্ক কর্তৃপক্ষ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪৫, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১২, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

হংকং বিমানবন্দর অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ওই আঞ্চলিক ভ্রমণকেন্দ্র এবং এর সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আগের দিন রাতভর সহিংসতার পর শনিবার বিক্ষোভ রুখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও স্পঞ্জ গ্রেনেড (দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এক ধরনের বস্তু) নিক্ষেপ করে দাঙ্গা পুলিশ।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন।  গত এপ্রিলে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল প্রণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত ৯ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে গত বুধবার (৪ সেপ্টম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন তিনি। বিল প্রত্যাহারের ঘোষণার পরও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে আন্দোলনকারী। এখন তাদের ওই দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকং-এর স্বাধীনতা, বৃহত্তর গণতন্ত্র, আন্দোলনকারীর ওপর পুলিশি নির্যাতনের তদন্ত ও চীনের নিযুক্ত নির্বাহী প্রধানের পদত্যাগের দাবি।

আধা স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের রাজনৈতিক সংকটকে ঘিরে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণে সেখানকার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যখন ১৩ তম সপ্তাহে পৌঁছেছে, ঠিক সেই সময় এমন পদক্ষেপ নিলো সেখানকার কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিমানবন্দর, এর আশেপাশে ও প্রবেশপথে হেলমেট ও ঢাল নিয়ে টহল দিচ্ছে দাঙ্গা পুলিশ। এদিন সকালে আদালতের এক আদেশের পর কেবল পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাসধারী পর্যটকদেরকে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে কর্মকর্তারা। দিনভর বিমানবন্দরমুখী বাসগুলো থামিয়ে যাত্রীদের লাগেজ ও পরিচয়পত্র পরীক্ষা করছে দাঙ্গা পুলিশ। যাদেরকে বিক্ষোভকারী বলে সন্দেহ হচ্ছে, তাদেরকেই বাধা দেওয়া হচ্ছে।

বিমানবন্দরের সঙ্গে শহরের সংযোগ রক্ষাকারী কয়েকটি স্টেশন বন্ধ করেছে বিমানবন্দর এক্সপ্রেস রেলওয়ে। হংকং স্টেশন টার্মিনালের সেবা চালু থাকলেও যেখানে বেশ কিছু সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ সতর্ক প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে। বিমানবন্দরমুখী বাস সার্ভিসের একাংশ স্থগিত করার পর দিক পরিবর্তন করে সেগুলো হংকংয়ের পার্শ্ববর্তী জেলা তুং চুয়ে পাঠানো হয়েছে। সকাল থেকে গাড়ি পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছে।

শুক্রবার  মং কক মেট্রো স্টেশনের বাইরে রাস্তা দখল, ব্যারিকেড ও আগুন জ্বালায় বিক্ষোভকারীরা। তারা মং কক এলাকায় পুলিশ স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি মেট্টো স্টেশনে ভাংচুর করে। নষ্ট করা হয় টিকিট মেশিন ও ব্যারিয়ার্স। সে সময় তাদের ওপর শর্টগানের গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। গভীর রাতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শনিবার বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার প্রিন্স এডওয়ার্ড মেট্টো স্টেশনের প্রবেশপথে সাদা ও হলুদ রঙের ফুল বিছিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ কারণেই তাদের মধ্যে আবেগ বেশি ছিল। সে সময় অনেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর খবর গোপন করেছে এমন সন্দেহ থেকে মেট্টো স্টেশনগুলোতে হামলা শুরু করেছিল বিক্ষোভকারীরা।

 

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ