জনসনকে ব্রেক্সিট বিলম্বে বাধ্য করতে আদালতে যাচ্ছেন আইনপ্রণেতারা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:১৫, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫০, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে রাজি না হওয়ায় এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা। জনসনের দল থেকে বহিষ্কৃত টোরি এমপিরাও এ উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে একটি আইনি পরামর্শক দলও গঠন করা হয়েছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের মে মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন জনসন। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে সময়সীমা বর্ধিত করার আহ্বান সম্বলিত একটি বিল এখন রাজকীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ব্রেক্সিটের সময় বাড়ানো সংক্রান্ত আন্তঃদলীয় বিলটি শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয়। তবে বরিস জনসন বলেছেন, ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আবেদন করার চেয়ে তিনি খাদে পড়ে মরে যাওয়াকে বেছে নেবেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর এমপিরা এখন সংঘবদ্ধ। তারা তাকে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার জন্য বাধ্য করতে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চূড়ান্তভাবে জনসন যদি ব্রেক্সিট বিলম্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে আইনপ্রণেতারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। সরকার আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে বললেও একে অর্থহীন বিলম্ব বলে আখ্যা দিয়েছেন জনসন। গুঞ্জন উঠেছে, ব্রেক্সিট বিলম্ব ঠেকাতে আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

থেরেসা মে সরকারের সাবেক ডি ফ্যাক্টো উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লিডিংটন বলেছেন, কোনও আইনকে অবজ্ঞা করা হলে তা ‘সত্যিকার অর্থে ভয়াবহ নজির স্থাপন করে’। তিনি আরও বলেন, “সরকারে থেকে কোনও কিছু করতে গেলে তার আগে আপনাকে ভাবতে হবে ‘অন্য কেউ যদি ক্ষমতায় থাকতো এবং আমার সঙ্গে এমন করতো তাহলে কি আমি খুশি হতাম?’ আর আপনার যদি মনে হয় যে তা নিয়ে আমি খুশি হতাম না, তাহলে তা হবে এক ভালোরকমের সতর্ক সংকেত।”

বরিস জনসনের চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কৌশল-এর বিরোধিতা করে জুলাইয়ে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন লিডিংটন। অবশ্য, সম্প্রতি আগাম সাধারণ নির্বাচন প্রশ্নে ভোটাভুটিতে সরকারপক্ষকে সমর্থন করেছেন তিনি।

/এফইউ/এমএমজে/

লাইভ

টপ