খাশোগি হত্যার অডিও’র অনুলিপি প্রকাশ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:১৬, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৬, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত মুহূর্তের রেকর্ডকৃত অডিও’র অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) তুর্কি দৈনিক সাবাহ’র এক প্রতিবেদনে ওই হত্যাকাণ্ডের আগ-মুহূর্তে খাশোগি ও কিলিং স্কোয়াডের মধ্যকার কথোপকথনের বিস্তারিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

 

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে আঙুল ওঠে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের খবর অস্বীকার করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার খবর অস্বীকার করা হয়। ওই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান।

তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ওই রেকর্ডিংটি সংগ্রহ করেছে। পরে সোমবার ওই রেকর্ডিংটা প্রকাশ করে জাতীয় দৈনিক সাবাহ। তাদের এক প্রতিবেদনে হত্যার ঠিক আগে খাশোগি ও ১৫ সদস্যের কিলিং স্কোয়াডের মধ্যকার কথোপকথনের চূড়ান্ত মুহূর্তের অডিও অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগি বসবাস করতেন যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি সৌদি রাজপরিবারের বিশেষ করে দেশটির যুবরাজ সালমানের কট্টোর সমালোচক ছিলেন। তিনি বিয়ের জন্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন।

দৈনিক সাবাহ’র প্রতিবেদন অনুসারে অনুলিপিতে কনস্যুলেটে খাশোগির প্রবেশের সময় তাকে এক পরিচিত কর্মকর্তা অভিবাদন জানান। পরে টেনে তাকে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

সৌদি আরবের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও যুবরাজ সালমানের দেহরক্ষী মাহের আব্দুল আজিজ মুদরিব বলেন, ‘অনুগ্রহ করে বসুন। আপনাকে আমাদের (রিয়াদ) ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ইন্টারপোল থেকে একটা নির্দেশ আছে। আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইন্টারপোল। আমরা এখানে এসেছি আপনাকে নিয়ে যেতে।’

খাশোগি জবাবে বলেছিলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। আমার বাগদত্তা বাইরে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন।’

খাশোগিকে হত্যার দশ মিনিট আগে মুদরিব তাকে অনুরোধ করেছিলেন, ‘তার ছেলেকে চলে যাওয়ার জন্য বার্তা পাঠাতে।’ তাকে আরও বলা হয়, যদি তিনি না পৌঁছান তাহলে উদ্বিগ্ন না হতে।

খাশোগি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর মুদরিব বলেন, ‘এটা লিখুন, জনাব জামাল। দ্রুত করুন। আমাদের সহায়তা করুন তাহলে আমরাও আপনাকে সহায়তা করবো। কারণ, শেষে আপনাকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো আমরা। যদি সহায়তা না করেন তাহলে আপনি জানেন ঘটনাটা কী ঘটবে।’

কর্মকর্তারা তখন সৌদি সাংবাদিকের ওপর ওষুধ/ড্রাগ প্রয়োগ করে। জ্ঞান হারানোর আগে তার শেষ কথা ছিল, ‘আমার অ্যাজমা আছে। তোমরা আমাকে শ্বাসরোধ করতে যাচ্ছো, এটা করো না।’

তারপরই তাকে হত্যা করা হয়। সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃতদেহটিও আর পাওয়া যায়নি।

/এইচকে/এএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ