টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:১০, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৩, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

গণতন্ত্র, মানবতা আর প্রাণ-প্রকৃতির পক্ষের লড়াকু যোদ্ধার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। বৃহস্পতিবার ৭৮ বছর বয়সে নিউ জিল্যান্ডের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  টোঙ্গার রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে দশকের পর দশক ধরে লড়াই করেছেন পোহিভা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তার মৃত্যুকে একটা বড় ধরনের শূন্যতা হিসেবে দেখছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা। 


টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রী আকিলিসি পোহিভা

৭৮ বছর বয়সী আকিলিসি চলতি বছরের প্রথমদিকে যকৃতের জটিলতাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা নিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে টোঙ্গার রাজধানী নুকুয়া’লোফার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বুধবার টোঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেখানকার চিকিৎসকরা জরুরিভিত্তিতে তাকে অকল্যান্ডের সিটি হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

টোঙ্গার গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ছিলেন পোহিভা। দেশটির রাজতন্ত্রের সঙ্গে তার ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিরোধাত্মক সম্পর্ক ছিল। ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি।  ১৯৮৭ সালে একবার দলসহ তাকে পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কার করেছিলো টোঙ্গার রাজা। একাধিকবার রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

গণতান্ত্রিক সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালে টোঙ্গাকে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশে রূপান্তর করতে সমর্থ হন পোহিভা। এখন পার্লামেন্ট সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে এখনও রাজতন্ত্রের প্রভাব নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। কঠোর রাষ্ট্রদ্রোহ আইনও বলবৎ রয়েছে।  তা সত্ত্বেও যে অবস্থা থেকে দেশটিকে তিনি এখানে এনেছেন, তার জন্য ২০১৩ সালে পার্লামেন্টারিয়ান্স ফর গ্লোবাল অ্যাকশন তাকে ‘ডিফেন্ডার অব ডেমোক্রেসি’(গণতন্ত্রের রক্ষক) পুরস্কারে ভূষিত করে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় কোনও দ্বীপ থেকে পোহিভাই সর্বপ্রথম ‘গণতন্ত্রের রক্ষক’ সম্মাননা পান। ওই অঞ্চলের নেতারা তার প্রয়াণে শোক জানাতে শুরু করেছেন। প্যাসিফিল আইল্যান্ড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডেম মেগ বলেন, পোহিভা  মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। গণতন্ত্র, স্বাধীনতার পক্ষের লড়াকু এই মানুষটি অত্যন্ত দয়ালু ও আদর্শবান ছিলেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষদের জন্য নিদারুণ আবেগ ছিলো তার। তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলের অন্যতম সংসদ সদস্য হিসেবে তার দেশ ও জনগণের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই কিভাবে একজন অ্যাক্টিভিস্ট থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে উঠেছিলেন এবং পুরোটা সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করে গেছেন।

ভানুয়াতুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, ‘ভালো একজন বন্ধু ও আদর্শবান এক নেতার জন্য আমার সমবেদনা।‘ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী পোহিভাকে জনগণ, টোঙ্গা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিবারের জন্য এক নিবেদিত লড়াকু বলে অভিহিত করেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অত্যন্ত সরব ছিলেন পোহিভা। সমুদ্র পৃষ্ঠের বাড়তে থাকা উচ্চতার কারণে হুমকির মুখে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন তিনি। দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা থাকার পরও চলতি বছর আগস্টে প্যাসিফিক দ্বীপ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। সেসময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন  এবারই হয়তো তার শেষ সম্মেলন। কিন্তু তারপর আবার গিয়েছিলেন সেখানে অসুস্থ শরীর নিয়েই। তুভালুর প্রধানমন্ত্রী এনেলে সোপোয়াগা বলেন, উপস্থিত নেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন পোহিভা।

/এমএইচ/বিএ/

লাইভ

টপ