আত্মহত্যা করলেন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:১৯, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৪, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

আত্মহত্যার মতো মানসিক সংকট মোকাবিলা করাটাই যার দায়িত্ব, যুক্তরাষ্ট্রে তেমন এক ব্যক্তিই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।  সে দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং ও মনস্তাত্ত্বিক সেবা বিভাগের পরিচালক গ্রেগরি ইয়েলস স্থানীয় সময় সোমবার সকালে স্বেচ্ছামৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছেন। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, ৫ বছর পর এসে সেই তিনিই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। স্বজনরা বলছেন, কাজের চাপে মানসিক সংকট ও হতাশার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ বছরের  মার্চ মাসে গ্রেগরি ইয়েলস পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং ও মনস্তাত্ত্বিক সেবা বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। ফিলাডেলফিয়ার জনস্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র জেমস গ্যারো বলেন, ‘মেডিক্যাল পরীক্ষকের কক্ষে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’

সোমবার শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েলস হঠাৎ করে মারা গেছেন। শিক্ষার্থীদের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি পেনসিলভানিয়ান জানিয়েছে, ২০১৩ সালে কমপক্ষে ১৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যায় মারা যাওয়ার পর পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী পরামর্শক আহ্বান জানানো হলে তিনি তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে ‘পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে সুস্থতা বজায় রাখতে পেনসিলভানিয়া ক্যাম্পাসব্যাপী উদ্যোগে ইয়েলসকে এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’ হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। প্রভোস্ট ওয়েন্ডেল প্রিটচেটের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের স্বার্থে আমাদের সেবার মানোন্নয়নের অব্যাহত প্রচেষ্টায় তার দুরদৃষ্টি ও অভিজ্ঞতা আমাদের অমূল্য সম্পদ হবে।’

ইয়েলসের মা জিনেটে ইয়েলস রিচ সংবাদমাধ্যম দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারকে জানিয়েছেন, ‘চাকরি নিয়ে তিনি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হতাশ ছিলেন, কারণ তার কাজটি অপেক্ষাকৃত কঠিন ছিল। চাকরি তাকে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।’ বর্তমানে নিউ ইয়র্কের ইথাকায় বসবাস করেন ইয়েলসের স্ত্রী ও সন্তানেরা। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলাডেলফিয়ার নিকটবর্তী নিচু এলাকায় সেন্টার সিটির নিজস্ব আবাসে তিনি মারা যান। এর আগে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং ও মনস্তাত্ত্বিক সেবা বিভাগের পরিচালক ও সাউদার্ন মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং সেন্টারের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ইয়েলস যে বিভাগের প্রধান ছিলেন, সেই কাউন্সিলিং ও মনস্তাত্ত্বিক সেবা বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা আছে, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, ব্যক্তিগত ও পরিস্থিতিগত চ্যালেজ্ঞ মোকাবিলা, বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খেয়ে চলার কৌশল উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিক ও পেশাগত উন্নতিতে সহায়তা করবে ওই বিভাগ।

 

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ