আগামী সপ্তাহে নিজ গ্রামে সমাহিত হবেন রবার্ট মুগাবে: পরিবার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৩৩, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪০, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা উত্তর প্রথম নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীরদের জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভে সমাহিত করার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাকে রাজধানী হারারের ওই স্মৃতিস্তম্ভে নয়, আগামী সপ্তাহে নিজ গ্রামে সমাহিত করা হবে জানিয়েছে তার পরিবার।

জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর)  সকালে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ওই সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগছিলেন।

জিম্বাবুয়ে সরকার সাবেক ওই প্রেসিডেন্টকে জাতীয় বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে সমাহিত করার পরিকল্পনা করেছে। তবে সরকারি ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার মুগাবের ভাতিজা লিও মুগাবে ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘রবিবার রাতে কুতামায় বেসরকারিভাবে তার মরদেহ দাফন করা হবে। তবে সোমবার বা মঙ্গলবারও হতে পারে। জাতীয় বীরদের ভূমিতে নয়। এটাই পুরো পরিবারের সিদ্ধান্ত।’

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট ইমারসন নানগাগওয়া মুগাবের মৃত্যুর পর তাকে জাতীয় বীর ঘোষণা করেন। যেটা তাকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সমাহিত করার বিষয়টি নির্দেশ করে। তবে তার পরিবার বলছে, মুগাবের নিজ জিম্বা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রধানরা ঠিক করবেন তাকে কোথায় সমাহিত করা হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগাবের এক ভাতিজা জানিয়েছেন তাকে ২০১৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করাতে তারা ক্ষুব্ধ। এ কারণে তাকে বেসরকারিভাবে সমাহিত করার পক্ষে পরিবার।

১৯৮০ সাল থেকে দুই মেয়াদে প্রায় ৩৭ বছর জিম্বাবুয়ে শাসন করেন রবার্ট মুগাবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট দুই পদেই দায়িত্ব পালন করেছেন আলোচিত এ নেতা। সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি যুক্তরাজ্যের কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। তিনি এ রাজ্যকে ‘শত্রু দেশ’ বলেও আখ্যা দেন।

২০১৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুগাবে সরকারের পতন ঘটে। তবে, তার আগেই পদত্যাগের শর্ত হিসেবে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। 

জিম্বাবুয়ের সাবেক এই প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা ছিল যে নিজ দেশেই শেষ সময়টুকু কাটাবেন তিনি। তবে সেটি পূরণ হয়নি। দীর্ঘদিন নানা অসুখ-বিসুখের সঙ্গে লড়ে অবশেষে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। 

রবার্ট মুগাবে তৎকালীন রোদেশিয়া সরকারের সমালোচনা করার জন্য ১৯৬৪ সাল থেকে ১ দশকেরও বেশি সময় কারাবাস করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার এক ছেলে মারা যায়, তখন তাকে অনুমতি নিয়ে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ১৯৭৩ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায়ই আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন (জেডএএনইউ) এর পক্ষ থেকে মুগাবেকে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়। এ দলটির তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

/এইচকে/জেজে/

লাইভ

টপ