পার্লামেন্ট স্থগিত বিষয়ে রানীকে মিথ্যা বলার অভিযোগ অস্বীকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:১৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৪, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট স্থগিতের বিষয়ে রানীকে মিথ্যা বলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জানান, রানীকে এ বিষয়ে কোনো মিথ্যা বলেননি তিনি। তবে অভিযোগ উঠেছে, সংসদ স্থগিতাদেশ বিষয়ে রানীর কাছে মিথ্যা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ সংসদ স্থগিতাদেশ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন তিনি। গত সপ্তাহে জনসন সরকারের ব্রেক্সিটনীতির বিরোধীরা পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব তোলেন। এই প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্রেক্সিট আরও পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। ওই প্রস্তাব পাশ হলে হেরে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর বরিস জনসন আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনার কথা জানান। স্থগিত করে দেন পার্লামেন্ট অধিবেশন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বরিস জনসন স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ বেসামরিক আদালতের নির্দেশনা নিয়ে আলাপ করছিলেন। ওই নির্দেশনায় তার সংসদ স্থগিতাদেশকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।  এ সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়,  সংসদ স্থগিতের বিষয়ে রানীকে মিথ্যা বলেছিলেন কি না। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই না। স্পষ্টভাবে ইংল্যান্ডের হাইকোর্ট আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। এবার সুপ্রিম কোর্টকে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অভিযোগ উঠেছে, সংসদ স্থগিতাদেশ বিষয়ে রানীর কাছে মিথ্যা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ, সংসদ স্থগিতাদেশ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। যদিও এবার পরিষ্কারভাবেই অভিযোগ অস্বীকার করলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার নির্ধারিত তারিখ ৩১ অক্টোবরের আগে ৫ সপ্তাহের জন্য সংসদ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বরিস জনসন সরকার। তবে সরকারের মন্ত্রীরা তখন থেকেই বলে আসছেন, সংসদ স্থগিত করার অর্থ সংসদের মুখ বন্ধ করা নয়।

আদালত জানিয়েছে, পার্লামেন্টকে কোণঠাসা করতেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  অন্যদিকে এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে তারা লন্ডন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে।

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত পার্লামেন্ট অধিবেশন বাতিল করার বিষয়টি অবৈধ বলে রায় দিয়েছে স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত। তিন বিচারক সমন্বিত এক প্যানেল পার্লামেন্ট সদস্যদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই রায় দেয়।  

ব্রেক্সিট বিরোধী এমপিরা বলেন, ব্রেক্সিটকে সামনে রেখেই পার্লামেন্ট অধিবেশন আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার।   সেসময় আদালতও সায় দিয়েছিলো। জানিয়েছিলো, বরিসন জনসন কোনও আইন ভঙ্গ করেননি। তবে স্কটিশ সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে জানালো জনসনের এমন প্রস্তাব অবৈধ। তবে মঙ্গলবার পার্লামেন্টের মূলতবি অবস্থা শুরু হলেও এখনই এই রায় কার্যকর হচ্ছে না।

আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্টে কোনও অধিবেশন নেই। সে দিন জনসনের পরিকল্পনা নিয়ে বক্তৃতা দেবেন ব্রিটেনের রানী। 

 

/এইচকে/

লাইভ

টপ