সৌদি আরবে হামলা পিছু হটে ইরানের সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের’ পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:১৩, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৭, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

সৌদি আরবের দুটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় ইরানকে দায়ী করে গত কয়েকদিন ধরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পারস্য উপসাগরীয় সামুদ্রিক জোটে যোগ দেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা জোরালো হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে পিছু হটার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়’ ওয়াশিংটন ও মিত্ররা।

চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে বলে দাবি করে। হামলার পর ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা দায় স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার পেছনে ইরানকে দায়ী করে আসছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান।

সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি’। এর আগে এক টুইটে তিনি জানিয়েছিলেন, অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিনকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বাড়ানোর ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তবে মাইক পম্পেওর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সীমিত করে কূটনৈতিক পথেই এগোবে দেশটি।

সৌদিতে ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, তেল খনিতে হামলা আসলে ইরানের যুদ্ধ অভিযানেরই শামিল। এসব ঘটনার পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ওই উত্তেজনাকে শীতল করার তাৎপর্যপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সৌদি আরব ও আমিরাত সফর শেষে দেশে ফিরে পম্পেও বলেন, ট্রাম্পের ওই বক্তব্য মূলত ইরানকে ‘কূটনৈতিক পথে ফেরানোর’ উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, ‘ট্রাম্পের বক্তব্যের উদ্দেশ্য সংঘাত বন্ধ করে ইরানকে কূটনৈতিক পথে ফেরানো। তেহরানকে বিমান হামলা জন্য নির্দিষ্টভাবে দোষারোপ থামিয়ে দেওয়া।’ তবে মুখপাত্র জনাথন হোফম্যান বলেন, ‘যতদূর ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাতে করে এটা নিশ্চিত যে, ইরান কোনও না কোনোভাবে ওই হামলার জন্য দায়ী।’

সম্প্রতি মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জারিফ বলেন, ‘আমি আমার দেশরক্ষায় গুরুতর বিবৃতি দিচ্ছি যে, আমরা সামরিক যুদ্ধে জড়াতে চাই না। তবে আমাদের ভূখণ্ড রক্ষায় আমরা পিছপাও হবো না।’

ইরানের ওই মন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে এক ধরনের কূটনীতির মধ্যে ছিলাম। যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দেন, তখন আমরা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটা জোট গঠন করতে যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য স্পষ্ট, ট্রাম্প চান ওই লক্ষ্য অর্জনে যেন আমি সফল হই। আমি আশা করি ইরানও বিষয়টি একইভাবে দেখবে। ইরানি মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন কিছু নেই। তবে আমি আশা করি যে, শেষ পর্যন্ত এটাই হবে।’ 

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ