সিসি-র পদত্যাগের দাবিতে মিসরের রাজপথে বিক্ষোভকারীরা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৭:১০, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২২, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

মিসরের স্বৈরশাসক জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি-র পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নামে হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘ভয় নয়, জেগে উঠো, সিসি হটাও’ প্রভৃতি স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে। রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ার ছাড়াও আলেকজান্দ্রিয়া, সুয়েজের মতো বড় বড় শহরগুলোতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
তাহরির স্কয়ার অভিমুখী বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালায় সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ধরপাকড়ের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। বিক্ষোভের তীব্রতায় বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।

স্বেচ্ছায় নির্বাসিত মিসরীয় ব্যবসায়ী ও অভিনেতা মোহাম্মদ আলীর এক আহ্বানের পর রাস্তায় নেমে আসতে শুরু করে মিসরের সাধারণ মানুষ। জেনারেল সিসি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেখানে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত সেখানে সিসি ও তার কর্মকর্তারা জনগণের বিপুল অংকের অর্থ অপচয় করছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জেনারেল সিসি।

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে মোহাম্মদ আলী বলেন, সিসি যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা না দেয়, তবে শুক্রবার মিসরের জনগণ রাজপথে নেমে আসবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর থেকেই জেনারেল সিসি-র দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন মোহাম্মদ আলী। অনলাইনে এসব ভিডিও লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের একজন পুরোধা হয়ে উঠেছেন স্বেচ্ছা নির্বাসিত এ ব্যবসায়ী।

আল জাজিরা-র মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ইয়েহিয়া ঘানেম বলেন, মিসরে এখন যা ঘটছে তা সেখানে দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ফল। শুক্রবারের বিক্ষোভ দেশটির মানুষের আন্দোলনে গতি সঞ্চার করবে।

২০১২ সালের ৩০ জুন মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি। এর এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল সিসি। প্রতিবাদে মুরসি সমর্থকরা রাস্তায় নামলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ব্রাদারহুডের প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মী। অভ্যুত্থানে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো। সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জেনারেল সিসি’কে সমর্থন দেয় সৌদি আরব।

সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করা হয়। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় দলটির প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মীকে। গ্রেফতার করা হয় কয়েক হাজার মুরসি সমর্থককে। কারাগারে পাঠানো হয় মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে। অন্তরীণ অবস্থাতেই কারাগারের খাঁচায় মৃত্যু হয় তার। কঠোর গোপনীয়তায় তাকে দাফনে পরিবারকে বাধ্য করা হয়। বাবার মৃত্যুর দুই মাসের মাথায় রহস্যজনকভাবে মারা যান মুরসি-র ২৪ বছরের পুত্র আবদুল্লাহ মুরসি। অনেকের আশঙ্কা, বাবার মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করায় তাকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে।

২০১৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জেনারেল সিসি সরকারের বিরুদ্ধে মিসরে এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের বিক্ষাভ। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, মিডল ইস্ট আই।

/এমপি/

লাইভ

টপ