সৌদি আরবে হামলা বন্ধের ঘোষণা হুথিদের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:০০, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৫, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করা হবে জানিয়েছেন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী আন্দোলনের এক কর্মকর্তা। সতর্ক করে দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, চলমান যুদ্ধের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। শুক্রবার রাতে হুথিদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কাউন্সিলের প্রধান মাহদি আল মাসাত এই ঘোষণা দিয়েছেন।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা

গত  ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা এ হামলার দায় স্বীকার করলেও এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান। এই ঘটনার জেরে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরও সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

শুক্রবার হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনে বিদ্রোহী নেতা মাহদি আল মাসাত বলেন, সৌদি অঞ্চলে সামরিক ড্রোন, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্য সব ধরণের অস্ত্র নিয়ে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছি। আর তাদের দিক থেকেও একই ধরণের পদক্ষেপের অপেক্ষা করছি।  এই হুথি নেতা বলেন, তারা (সৌদি আরব) এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে নিতে ব্যর্থ হলে প্রত্যাঘাতের অধিকার আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ কোনও পক্ষই লাভবান হবে না।

ইয়েমেনে যুদ্ধে লিপ্ত বিভিন্ন পক্ষকে সত্যিকার আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুথি নেতা আল মাসাত বলেন, এই আলোচনা কাউকে বাদ না দিয়ে বিস্তৃত জাতীয় পুনর্গঠনকে ত্বরাণ্বিত করবে।  তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের বড় লক্ষ্য হবে ইয়েমেনিদের রক্ত রক্ষা করা আর সাধারণ দায়মুক্তি অর্জন।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে কোটি কোটি মানুষ।

হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ঘোষণা বিষয়ে তাৎক্ষনিক কোনও মন্তব্য করেনি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

 

 

/জেজে/

লাইভ

টপ