‘পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ ইউরোপের নেই’

বিদেশ ডেস্ক
০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩১আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৩

যেসব ইউরোপীয় দেশ তেহরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে তাদের পক্ষে আইনগতভাবে এ সমঝোতা ত্যাগ করা সম্ভব নয়। রবিবার ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। ‘পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ ইউরোপের নেই’
তিনি বলেন, তিন ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এ সমঝোতা লঙ্ঘনও করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ সমঝোতা ত্যাগ করে নগ্নভাবে এটি লঙ্ঘন করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোও কোনও কোনও ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু সমঝোতা একটি আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়েছে। ফলে এটি মেনে চলতে সবাই বাধ্য। কাজেই এ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অর্থ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তেল রফতানিতে সম্ভাব্য সব মাধ্যম ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী বিজন জাঙ্গানেহ। তার ভাষায়, নিজ দেশের অপরিশোধিত তেল রফতানি তেহরানের বৈধ অধিকার।

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন (পি-ফাইভ) ও জার্মানি (ওয়ান) পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে থেকে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন।

এর প্রেক্ষিতে ওই চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাচ্ছে তেহরান। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তৃতীয়বারের মতো প্রতিশ্রুতি কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এবারের ঘোষণায় দেশটির পারমাণবিক গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার ওপর আরোপিত সব ধরনের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই ঘোষণার পর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সংশ্লিষ্ট তেল পরিবহন নেটওয়ার্ক ও পরে জাতীয় ব্যাংকের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এমন বাস্তবতায় ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানি ৮০ ভাগ হ্রাস পায়।

বিজন জাঙ্গানেহ বলেন, ‘আমরা আমাদের তেল রফতানি করতে সব ধরনের সম্ভাব্য মাধ্যম ব্যবহার করবো। আমরা আমেরিকার চাপের কাছে নতিস্বীকার করবো না। কারণে তেল রফতানি ইরানের বৈধ অধিকার।’ সূত্র: পার্স টুডে, রয়টার্স।

/এমপি/
সম্পর্কিত
ভারতে ভূমিকম্পের সবচেয়ে ঝুঁকিতে কোন কোন অঞ্চল
এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কাছে নালিশ করবেন নেতানিয়াহু
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে দ্রুতগতির কারের ধাক্কা, একই পরিবারের নিহত ৫
সর্বশেষ খবর
গাড়ি ভাড়াটা এখনও দিতে পারিনি, মাসের শেষ: সংসদে নাহিদ ইসলাম
গাড়ি ভাড়াটা এখনও দিতে পারিনি, মাসের শেষ: সংসদে নাহিদ ইসলাম
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডা
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডা
জাতীয় সংসদে দুটি আইনের বিল উত্থাপন, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটিতে
জাতীয় সংসদে দুটি আইনের বিল উত্থাপন, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটিতে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একই স্থানে আবারও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, গুরুতর আহত যাত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একই স্থানে আবারও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, গুরুতর আহত যাত্রী
সর্বাধিক পঠিত
১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে
১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে
চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা
চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
ইরানের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না: ট্রাম্প
ইরানের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না: ট্রাম্প