মোদি-শি জিনপিং বৈঠক; আলোচনা হতে পারে কাশ্মির নিয়ে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:৩০, অক্টোবর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪৩, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’র সঙ্গে এক ঘরোয়া বৈঠক করতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাশ্মির ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) চেন্নাইয়ের মামাল্লাপুরামে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যু প্রধান্য পাবে। তবে এ আলোচনায় কাশ্মির ইস্যু উত্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন চীনা কর্মকর্তারা।

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগে গত বছর সীমান্ত বিরোধের জেরে অচলাবস্থা সৃষ্টির পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে চীনের ইউহান শহরে প্রথম ঘরোয়া বৈঠক করেন এই দুই শীর্ষ নেতা। এবার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে ১১-১২ অক্টোবর বৈঠক করবেন তারা।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মিরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল পাস হয়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। জারি করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শত শত নেতাকর্মীকে। সেখানে উন্নয়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটা দেশটির ‘সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়’ ভারতের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও পাকিস্তান বলছে, সেখানে কাশ্মিরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দিল্লির ওই পদক্ষেপের পর এর প্রতিবাদে জাতিসংঘে বৈঠকের আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে। পরে চীন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের জন্য আহ্বান জানালে তা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অস্বীকৃতি জানায় পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। পরে তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানায়।

বুধবার (৯ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভারত-চীনের নিবিড় উন্নয়নের অংশীদারিত্ব জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দুই নেতাকে সুযোগ করে দেবে চেন্নাইয়ের আসন্ন অনানুষ্ঠানিক বৈঠক।’

জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইনিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্দাপালি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এ রকম দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা স্থানীয়সহ আঞ্চলিক অনেক ইস্যুতে পারস্পারিকভাবে জড়িত।’

কাশ্মির ইস্যুকে সামনে রেখে সম্প্রতি দুইদিনের চীন সফর করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার সফরকালেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক স্তরে আলোচনা করে ভারত ও পাকিস্তানের উচিত কাশ্মির সমস্যার সমাধান করা। চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের আগে কাশ্মির নিয়ে চীনের এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

প্রেসিডেন্টের ভারত সফর নিয়ে কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং সুয়ান। সে সময় কাশ্মির ইস্যুতে তিনি বলেছেন, ‘সমস্যার সমাধান ভারত এবং পাকিস্তানকেই করতে হবে। কাশ্মির সমস্যা নিয়ে চীনের অবস্থান ধারাবাহিক এবং স্পষ্ট। আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে বলেছি, কাশ্মির-সহ সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা আলোচনায় বসুক এবং পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াক। এই পথ দুই দেশের স্বার্থে এবং বিশ্বও তাই চায়।’

 

/এইচকে/

লাইভ

টপ