চিলিতে বিক্ষোভ, গার্মেন্টস কারখানায় আগুনে নিহত ৫

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:০৩, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৮, অক্টোবর ২১, ২০১৯

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে একটি গার্মেন্টস কারখানায় আগুনে পুড়ে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (২০ অক্টোবর) রাজধানী সান্তিয়াগোর কাছে একটি কারখানায় আগুন লাগানো হয়। এর আগে অপর একটি মার্কেটে আগুনের ঘটনায় তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। সরকার আগুনের জন্য লুটপাটকারীদের দায়ী করছে। বিক্ষোভ দমনে জরুরি অবস্থা ও কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজপথে নামানো হয়েছে সেনা ও ট্যাংক।

লাতিন আমেরিকার অন্যতম সম্পদশালী দেশ চিলি। তবে বর্তমানে দেশটিতে ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান। রাজধানী সান্তিয়াগোতে জীবনযাপনের ব্যয় বাড়ার অভিযোগ ক্রমাগত বাড়ছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের আহ্বানও রয়েছে। প্রথমে মেট্রোর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলেও বিক্ষোভ থামেনি, আরও ছড়িয়ে পড়ে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ থামাতে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়লে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। এর পর দেশটির রাজধানী সান্তিয়াগোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, মূলত মাধ্যমিক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভকারীরা ভূগর্ভস্থ কয়েকটি স্টেশনে হামলা চালিয়ে এবং রাস্তা বন্ধ করে দিলে নগরজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (২০ অক্টোবর) রাতে সান্তিয়াগোতে ও নাশকতার ঘটনাসহ বিভিন্ন স্থানে এ দিন সাতজন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেস চ্যাডউইক, তবে  এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।

সামরিক বাহিনী ও পুলিশ দিনভর টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমনের চেষ্টা করেছে। রাতে প্রধান শহরগুলোতে কারফিউ জারি হয়।

রবিবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলেছে দেশটিতে। বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বেশ কয়েকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ দিন সান্তিয়াগোর প্রায় সব গণপরিবহন বন্ধ ছিল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গামী সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং শহরটির সব দোকানপাটও বন্ধ ছিল।

১৯৯০ সালে একনায়ক আগুস্তে পিনোশের ক্ষমতা শেষে চিলিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এ বারই প্রথম সান্তিয়াগোর রাস্তায় হাজার হাজার সেনা ও ট্যাংক নামানো হয়।

বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে’ বলে সাফাই গেয়েছেন প্রেসিডেন্ট পিনইয়েরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একটি সংঘর্ষের সময় গুলিতে দুই পুলিশ আহত হয়েছেন।

এর আগে শনিবার একটি মার্কেটে লাগানো আগুনে পুড়ে আরও তিন জন নিহত হন।

 

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ