ইরানের তেল শোধনাগারের আগুন কি সৌদি আরবের প্রতিশোধ?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:০৭, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৯, অক্টোবর ২১, ২০১৯

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবাদানে দেশটির সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম তেল শোধনাগারের আগুন লেগেছে। এই ঘটনাকে অনেকেই সম্প্রতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্টমনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বেরে আরামকোয় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ইরানের সরকারবিরোধী সূত্র জানিয়েছে, আবাদানে ‘সাইবার হামলার’ মাধ্যম আগুন লাগানো হয়েছে। তবে এসব দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আবাদানে তেল শোধন প্রক্রিয়া শেষে বর্জ্য নিষ্কাশন চ্যানেলে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তেল উৎপাদন প্রক্রিয়াতেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। পরে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শোধনাগারের দমকল বিভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অন্যান্য ইউনিটগুলোতে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা এ হামলার দায় স্বীকার করলেও এ ঘটনায় তেহরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান। এর পর চলতি মাসের গোড়ার দিকে লোহিত সাগরের সৌদি উপকূলে ইরানের তেল ট্যাংকারে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সৌদি আরবকে দায়ী করেছে ইরান।

ইরানের সরকারবিরোধী সূত্র দাবি করেছে, ‘সাইবার হামলার’ মাধ্যমে আবাদানে আগুন লেগেছে। তবে ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি মিডল ইস্ট মনিটরের পক্ষ থেকে।

১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত আবাদান ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার। ইরানে তেল শিল্প প্রতিষ্ঠার পরপরই ১৯১২ সালে এই শোধনাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে এই শোধনাগারে বেশ কয়েকটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পাশাপাশি পুরনো ইউনিটের সংস্কার করা হয়।

 

/এইচকে/এএ/

লাইভ

টপ