সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান কুর্দিদের বিরুদ্ধে এরদোয়ান-পুতিনের ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:১০, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৩, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

তুরস্ক ও রাশিয়া সিরীয় কুর্দিদেরবিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার এক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। উভয়দেশ চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক বৈঠক শেষে এই চুক্তি হয়েছে। তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর ওই এলাকাগুলো তুরস্ক ও রাশিয়ার সেনারা অবস্থান করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

তুরস্ক সিরীয় কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক শুরু করে গত সপ্তাহে। দেশটির কুর্দিদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।

মঙ্গলবারের চুক্তি অনুসারে, সীমান্তে রাশিয়া ও তুরস্ক যৌথ টহল পরিচালনা করবে। এর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটির ক্ষমতা কাঠামোয় পরিবর্তন ঘটাবে। কারণ এখন ওই এলাকায় তুরস্ক ও রাশিয়া সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত প্রত্যাহারে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছিল তা পূরণ করবে তুর্কি-রুশ সেনারা।

রুশ-তুর্কি এই চুক্তি এমন সময় হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তুরস্ক-কুর্দিদের অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার পথে। এই চুক্তির ফলে অস্ত্রবিরতির সময়সীমা আরও বেড়েছে। তুরস্ক তথাকথিত সেফজোন ও সীমান্ত থেকে ৩২ কিলোমিটার ভেতরে যেতে কুর্দিদের আরও ১৫০ ঘণ্টা সময় দিয়েছে।

যেভাবে রাশিয়া জড়িত?

ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দিদের যোদ্ধাদের সহায়তা ও সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল ও কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে ৯ অক্টোবর তুরস্ক সামরিক অভিযান শুরু করে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মিত্র রাশিয়া সীমান্তের কাছে সেনা মোতায়েন করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, বিদেশি শক্তি সিরীয় ভূখণ্ড দখল করতে পারে। সীমান্তে রুশ সেনা মোতায়েনের ফলে তুর্কি-রুশ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। যা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান উভয়েই এড়াতে চান।

মঙ্গলবার রাশিয়ার সোচিতে বৈঠকে বসেন পুতিন ও এরদোয়ান। ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে উভয় দেশ একটি চুক্তিতে সম্মত হয়। রাশিয়া তুরস্কের অভিযানকে সমর্থন জানায়। এতে করে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রশমিত হয়।

উভয়দেশের আলোচনায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপত্যকা স্থান পেয়েছে। যা রাস আল-আইন থেকে তাল আবিয়াদ শহর পর্যন্ত। এখানেই তুর্কি অভিযান চলছে। কিন্তু এরদোয়ান সেফ জোনের জন্য পুরো ৪৪০ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকা চেয়েছিলেন।

বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক ও রাশিয়া জানিয়েছে, মানবিজ ও তাল রিফাত শহর থেকেও কুর্দি সেনাদের বিতাড়িত করা হবে। এই দুই শহর তুর্কি অভিযানের আওতাধীন নয়।

কুর্দি মিলিশিয়ারা এই বিষয়ে তাদের সম্মতির কথা এখনও জানায়নি। 

 

/এএ/

লাইভ

টপ