‘সেই তদন্তের জন্যই ইউক্রেনকে সহায়তা দেন ট্রাম্প’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:০৭, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৯, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনকে চাপ দিয়েছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপেও বিষয়টি নিয়ে চাপ দেন তিনি। এমনকি ওই তদন্তের জন্যই ইউক্রেনকে সহায়তা দেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের এ সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ নিয়ে এসব কথা জানান ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম টেইলর। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
হোয়াইট হাউসকে ব্যবহার করে নিজের প্রতিন্দ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে চাপ দেওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য ওই কংগ্রেসের তদন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার অভিশংসন তদন্তের শুনানিতে অংশ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম টেইলর জানান, ওই তদন্তের জন্য ইউক্রেনকে দফায় দফায় চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

উইলিয়াম টেইলর জানান, ওই তদন্তের বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং ইউক্রেনকে মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল হোয়াইট হাউস।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিশংসন তদন্তকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে পুরো তদন্তকে তিনি ‘লিচিং’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, যথাযথ প্রক্রিয়া বা ন্যায্যতা বা কোনও আইনি অধিকার ছাড়াই অভিশংসন তদন্ত চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে তার এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেননা, ‘লিচিং’ শব্দটি দেশটির বর্ণবাদী ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশটিতে লিচিং বলতে কৃষ্ণাঙ্গদের গলায় রশি লাগিয়ে বেআইনিভাবে হত্যা করাকে বুঝায়। ফলে বিরোধীরা ট্রাম্পের এমন কলঙ্কজনক বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হোগান গিডলি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্প বর্ণবাদী ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে যেভাবে তাকে তুলে ধরা হচ্ছে তা তুলে ধরতে প্রেসিডেন্ট অনেক শব্দ ব্যবহার করেছেন, সব ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তিনি ভয়াবহ ঐতিহাসের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে চাননি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মধ্যকার একটি টেলিফোন আলাপ ফাঁস হয়। ওই ফোনালাপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ওই ফোনকলের অনুলিপিও গোপন করতে চেয়েছিল হোয়াইট হাউস। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ওই ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে। ট্রাম্পকে তার পদ থেকে সরাতে তদন্ত শুরু করেছে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তবে এ ইস্যুতে নিজের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগকে ন্যাক্কারজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার এ তদন্তেই স্বাক্ষ্য দেন ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম টেইলর।

/এমপি/

লাইভ

টপ