একটু পরেই বাবরি মসজিদ মামলার রায়, অযোধ্যায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:৩২, নভেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

বাবরি মসজিদ মামলার ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিজেপি সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল। অযোধ্যায় জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য। উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আদালতের সিন্ধান্ত মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জমিয়াতে উলেমায়ে হিন্দ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল বাবরি মসজিদের ভূমি তিন ভাগে ভাগ করে বণ্টনের আদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনায় মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড, নিরমাজি আখড়া আর রামনালা পার্টিকে সেখানকার ২ দশমিক ৭ একর জমি সমানভাগে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হিন্দু-মুসলিম দুই পক্ষই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিল। শুনানি চলেছিল লাগাতার ৪০ দিন। শুনানির শেষে রায় সংরক্ষিত করে রেখেছিল শীর্ষ আদালত। শনিবার সেই  অযোধ্যা মামলার রায় দিতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এই মামলার রায় দেবে। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর সঙ্গে এই সাংবিধানিক বেঞ্চে থাকছেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ ও এস আব্দুল নাজির।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রায়ের পর যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য ভারতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সব রাজ্যে সতর্কতা জারি করতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কয়েক দশক ধরে চলা বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার আগে সব রাজ্যকে সতর্ক থাকতে বলেছে কেন্দ্র। অযোধ্যা ও উত্তরপ্রদেশের সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪,০০০ আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  ‘সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করতে নির্দেশনা দিয়ে সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের কোথাও যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্যও বলা হয়েছে।’

সুরক্ষার আস্তরণে ঢাকা হয়েছে ভারতীয় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে। রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সাত পৃষ্ঠার নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, রেল স্টেশনের কাছাকাছি কোনও ধর্মীয় স্থান থাকলে সেখানেও কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।

অযোধ্যা রায়ের পরে শান্তি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন হিন্দু ও মুসলিম সংগঠনও আহ্বান জানিয়েছে। দেশের নানা প্রান্তে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। অযোধ্যা শহরকে মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। উত্তরপ্রদেশ সরকার নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শনিবার ও সোমবার বন্ধ রাখতে হবে।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ