behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ইন্দিরার পথেই রাহুল

বিদেশ ডেস্ক০৩:৩৭, ডিসেম্বর ১১, ২০১৫

বাবার পথ ধরে আগালে বলা যেত- বাপ কা বেটা। কিন্তু ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় রাহুলের সিদ্ধান্তকে এভাবে বলা যাচ্ছে না। হয়ত বলা যায়- যেমন দাদি, তেমন নাতি। কারণ দাদি ইন্দিরা গান্ধীর মতো তিনিও ঘোষণা দিয়েছেন জামিন আবেদন করবেন না। জেলে যেতে হলে তাতেই সই।

ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আগামী ১৯ ডিসেম্বর আদালতে উপস্থিত হবে সোনিয়া গান্ধী ও তার ছেলে রাহুল গান্ধীকে। বুধবার রাহুল তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন। জামিন বা মুচলেকা দিয়ে মুক্ত থাকতে চান না। তারচেয়ে জেলে যাওয়াই তার পছন্দ।

রাহুলের এ ঘোষণা স্পষ্ট করে দিল তিনি দাদি ইন্দিরা গান্ধীর পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চান। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭৭ সালে কারবারণ করেছিলেন।

দাদি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়ান স্বামীর দায়ের করা ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় দিল্লির একটি আদালত সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কংগ্রেস এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কংগ্রেসের দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের টেলিগ্রাফ লিখেছে, মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার আইনী ঝামেলায় ফেলতেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে- মা সোনিয়াকে এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন রাহুল। এর ফলে তারা জামিন আবেদনও করবেন না।

টেলিগ্রাফ সূত্রে বরাতে লিখেছে, ‘সোনিয়াসহ মতিলাল ভোরা, অস্কার ফার্নান্দেজ, স্যাম পিত্রোদা ও ইয়ং ইন্ডিয়া কর্মকর্তারা হ্যারাল্ডের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে জামিন আবেদন করতে পারেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী জামিন আবেদন করার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন।’

৯ ডিসেম্বর সোনিয়া গান্ধীর সভাপতিত্বে এ বিষয়ে কৌশল ঠিক করতে কংগ্রেসের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের নেতারা আইনী ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, কংগ্রেসের এমপিরা সংসদে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করবেন। তারা সরকারের এ পদক্ষেপকে হতাশায় পর্যবসিত করতে চান।

হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, সংসদের শীতকালিন অধিবেশনে পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা জিএসটি বিলের কংগ্রেস কঠোর অবস্থান নিতে পারে। এতে করে বিলটি পাস হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

মামলাটিকে শতভাগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে বুধবার সংসদের বাইরে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনীতি করার এটাই তাদের পথ।’

মামলার রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

রাহুলের এ বক্তব্যের একদিন আগে সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, ‘আমি ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ, কোনও কিছুতেই আমি ভীত নই।

বাবা-মা ও দাদির সঙ্গে ছোট্ট রাহুল

১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী গ্রেফতার হওয়ার পর জনগণের সহানুভূতি আদায় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কংগ্রেস নেতারা রাহুলের এ পদক্ষেপ থেকেও একই ধরনের ফল আশা করছেন। এর মধ্যেই কংগ্রেস বেশ কিছু দল ও নেতার সমর্থন পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ভারতের পুরনো এ রাজনৈতিক দলের পক্ষেই দাঁড়িয়েছে।

ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে সোনিয়া ও রাহুলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা ও আস্থা ভঙ্গের মামলাটি দায়ের করেন বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান সোয়ামি। তার অভিযোগ, দিল্লিতে ন্যাশনাল হেরাল্ডের কার্যালয়সহ মূল্যবান সম্পত্তি দখল করতে আইন ভঙ্গ করেছেন এ দুই নেতা।

১৯৩৮ সালে জওহরলাল নেহরু ন্যাশনাল হেরাল্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৩৮ সালে উত্তরাঞ্চলীয় শহর লক্ষ্ণৌ থেকে সংবাদপত্রটি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনে পত্রিকার ভূমিকাকে উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

তবে ধীরে ধীরে পত্রিকাটির অব্যবস্থাপনা, দুর্বল সার্কুলেশন দেখা যাওয়ায় এবং রাজস্ব কমতে থাকায় ২০০৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান সোনিয়া।

সুব্রামানিয়ানের অভিযোগ, সংবাদপত্রটির প্রকাশনা সংস্থা দখলের মধ্য দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন সোনিয়া।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগটি অস্বীকার করে আসছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, জাতীয় সম্পদ বিবেচনায় পত্রিকাটিকে উল্টো ৯০ কোটি রুপি ঋণ দেওয়া হয়েছিল।

/এএ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ