ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ইরাক থেকে তার মরদেহ কখন ইরান পৌঁছাবে? জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জেনারেলের মরদেহ শনিবার বিকালে তেহরানে পৌঁছাবে। বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাসেম সোলাইমানিসহ পাঁচ ইরানি শহীদের মরদহে শনিবার বিকালে দেশে পৌঁছাবে। এর আগে ইরাকি জনগণের অনুরোধে তাদের মরদেহ কারবালা ও নাজাফে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ইরাকি জনগণ তাদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শোক জানাবেন।
এদিকে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি-র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইরানের মানুষ। এ হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজপথে নেমে আসে বিপুল সংখ্যক মানুষ। আমেরিকা নিপাত যাক স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে তেহরানের রাজপথ। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম বলছে, এদিনের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে কোটি মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, যেসব অপরাধী তাদের নোংরা হাত দিয়ে জেনারেল সোলাইমানির রক্ত ঝরিয়েছে তাদের জন্য কঠোর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। চরম প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামাজান শরিফ বলেছেন, সোলায়মানি হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষণিকের উল্লাস শিগগিরই শোকে পরিণত হবে। আইআরজিসি, জনগণ ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধ ফ্রন্ট তার রক্তের বদলা নেবে।
আইআরজিসি’র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামাজান শরিফ বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) থেকে আইআরজিসি ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং জেনারেল সোলাইমানির গড়ে তোলা যোগ্য ও সাহসী সংগ্রামীরা তার লক্ষ্য-আদর্শকে বাস্তবায়ন করবে।’
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে রকেট হামলা চালিয়ে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাববলয় বৃদ্ধির লড়াইয়ে প্রধান নেপথ্য কারিগর মনে করা হতো। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের দাবি, কাসেম সোলাইমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক ও সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। ওই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। সূত্র: পার্স টুডে, দ্য গার্ডিয়ান।








