আরেকটি যুদ্ধের ধকল সামলানো সম্ভব নয়: জাতিসংঘ মহাসচিব

বিদেশ ডেস্ক
০৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৭:৫৯ আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:০৯

ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, এটি এমন একটি মুহুর্ত যখন নেতাদের অবশ্যই সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। বিশ্ববাসীর পক্ষে পারস্য উপসাগরে আরেকটি যুদ্ধ সহ্য করা সম্ভব নয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে তার একজন মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। আরেকটি যুদ্ধের ধকল সামলানো সম্ভব নয়: জাতিসংঘ মহাসচিব
বিবৃতিতে অবশ্য জেনারেল সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়নি।

তেহরানের পক্ষ থেকে জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার যে কোনও পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী থাকতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালিয়ে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে জেনারেল সোলাইমানির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে তার হত্যাকাণ্ডের এমন পরিণতি হতে পারে যা অকল্পনীয়। তবে যে পরিণতিই হোক তার পুরো দায় যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।

ফোনালাপে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

এদিকে সোলাইমানি-র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইরানের মানুষ। এ হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজপথে নেমে আসে বিপুল সংখ্যক মানুষ। আমেরিকা নিপাত যাক স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে তেহরানের রাজপথ। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম বলছে, এদিনের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে কোটি মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, যেসব অপরাধী তাদের নোংরা হাত দিয়ে জেনারেল সোলাইমানির রক্ত ঝরিয়েছে তাদের জন্য কঠোর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। চরম প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের বিমান হামলা চালিয়ে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাববলয় বৃদ্ধির লড়াইয়ে প্রধান নেপথ্য কারিগর মনে করা হতো। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের দাবি, কাসেম সোলাইমানি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। ওই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, পার্স টুডে।

/এমপি/
সম্পর্কিত
এবার ইরানের স্থলপথ বাণিজ্যেও চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ঘোড়দৌড় থেকে ৪ লাখ মানুষের ভোজ, মেয়ের বিয়ের বর্ণাঢ্য আয়োজনে আলোচনায় বিধায়ক
২৫০ বছরের পুরনো দোকান কেন এখনও কলকাতায় বিখ্যাত, কী পাওয়া যায় সেখানে?
সর্বশেষ খবর
মহেশখালীতে হচ্ছে আরও ৩ এলএনজি টার্মিনাল: মুখ্য সচিব
মহেশখালীতে হচ্ছে আরও ৩ এলএনজি টার্মিনাল: মুখ্য সচিব
পিছিয়ে পড়েও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে বার্সেলোনা
পিছিয়ে পড়েও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে বার্সেলোনা
এইচএসসির ১১ লাখ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন, কোন সাবজেক্ট বেশি?
এইচএসসির ১১ লাখ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন, কোন সাবজেক্ট বেশি?
মন্দিরে মন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্যামা পূজা উদযাপন
মন্দিরে মন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্যামা পূজা উদযাপন
সর্বাধিক পঠিত
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
১০ লাখ টাকা থাকলে কোথায় বিনিয়োগ করবেন
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, ডিসিকে সরাতে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
আজই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে 
প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা
প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা
‘আমরা সবজির ওপরই নির্ভরশীল, মাছ-মাংস জোটে কালেভদ্রে’
‘আমরা সবজির ওপরই নির্ভরশীল, মাছ-মাংস জোটে কালেভদ্রে’