সিরিয়ার আরও একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তুরস্ক। ২০২০ সালের ৩ মার্চ মঙ্গলবার ইদলিবে এটি ভূপাতিত করা হয়। সিরীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসও এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
গত রবিবার দেশটির আরও দুইটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে আঙ্কারা। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে তুরস্কের হাতে তিন জঙ্গিবিমান হারালো দামেস্ক। সোমবার তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, তুরস্কের বাহিনী আসাদের আটটি হেলিকপ্টার, বেশ কয়েকটি ট্যাংক এবং পাঁচটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
সম্প্রতি রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী ইদলিবে বিমান হামলা চালিয়ে ৩৩ তুর্কি সেনাকে হত্যা করে। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে আসাদ বাহিনীর দুই সুখোই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে তুরস্ক। ড্রোন হামলা চালিয়ে আসাদ বাহিনীর তিন ঊর্ধ্বতন জেনারেলসহ অন্তত ২৬ সেনাকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যেই সোমবার আসাদ বাহিনীর তৃতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলো তুরস্ক। এদিন ভূপাতিত হওয়া বিমানটি ইদলিবে আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছিল।
সিরীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ জঙ্গিবিমানের সাহায্যে সিরিয়ায় একটি এল-৩৯ টাইপ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তুরস্ক।
টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসাদ বাহিনীর একটি এল-৩৯ বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, তুরস্ক এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমান ব্যবহার করে আসাদ বাহিনীর বিমানটি ভূপাতিত করে। এটি পড়েছে আসাদ বাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায়। তবে এর পাইলটের ভাগ্যে কী ঘটেছে সেটি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এদিকে সিরীয় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরে প্রবেশ করেছে আসাদ বাহিনী। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীদের কাছ থেকে সারাকেব শহরের দখল নিয়েছে সেনাসদস্যরা। ইতোমধ্যেই সেখানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে আসাদ বাহিনী। তবে শহরের পশ্চিমাংশে এখনও লড়াই চলছে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ওই অঞ্চল পুনর্দখলের চেষ্টা করছে বিদ্রোহীরা।
সারাকেব শহরটির একদিকে আসাদ বাহিনী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পো ও অপর দিকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ গত এক মাসেরও কম সময়ে দুইবার বদল হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার মস্কো যাচ্ছি। আশা করছি তিনি (পুতিন) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন, যেমন যুদ্ধবিরতি। এছাড়া এ বিষয়ে একটি সমাধান খুঁজে পাওয়ার আশা করছি।’
উল্লেখ্য, সিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধে শুধু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নয় বছর ধরে চলা সিরীয় গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে এই সংঘাত। সূত্র: আল জাজিরা।








