behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বিহারের নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের ১০ কারণ

বিদেশ ডেস্ক১৮:১৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৫

bihar-nda-leadersবিহারের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজ্য বিজেপির তরফে বেশ কয়েকটি বৈঠক করে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়। কী কারণে বিজেপি হেরে গেল, তা নিয়ে তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানকে সামনে এনেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। রাজ্য বিজেপির বরাতে পরাজয়ের ১০টি কারণ উল্লেখ করেছে তারা। সেগুলো হলো:

১. নীতিশ কুমার, লালু প্রসাদ আর কংগ্রেসের জোটের কাছে বিজেপির পরাজয়ের একটা বড় কারণ, বিধানসভার ২৪৩টি আসনের ক্ষেত্রেই প্রার্থী নির্বাচনের সময় সামাজিক ও বর্ণভিত্তিক অবস্থানকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলো বিরোধী জোট। বিজেপি যেটা পারেনি।

২. যাদব-নীতিশের মহাজোট মুসলিম ও কুরমিদের ভোট পেয়েছে স্বভাবতই। কিন্তু বিজেপির স্থানীয় সহযোগী দলগুলো প্রথাগতভাবে নিচু বর্ণের মানুষের যে ভোট পেয়ে থাকে; এবার তা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এক বছর আগেই এরা জাতীয় নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলো।

৩. বিহার নির্বাচনে পরাজয়ের আরেকটা বড় কারণ ভোট বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরকে হারানো এবং তার নিতীশের পক্ষে কাজ করা। মোদির হয়ে সাধারণ নির্বাচনের সময়কার প্রচারণায় দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

৪. সংরক্ষণ নীতি (ভারতে জারি থাকা শিক্ষা-বৃত্তি চাকরিক্ষেত্রের কোটাভিত্তিক অগ্রাধিকার) পুনর্মূল্যায়নের ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস)পরামর্শ বিজেপির বিরুদ্ধে গেছে। কেননা রাজ্যের ৫০ শতাংশ মানুষ ওই ব্যবস্থার সুফল পেয়ে থাকে। আরএসএস-এর প্রচারণাকে বিরোধীরা ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে, তারা প্রচার করেছে বিজেপি কোটা ব্যবস্থা তুলে দিতে চাইছে। যা তাদের প্রচারণার সহায়ক হয়েছে।

৫. রাজ্যের বিজেপি নেতাদের মত, প্রচারণার মাঝামাঝি সময়ে, যখন প্রার্থীদের নিজেদের নিজেদের প্রচারণা চালানো দরকার, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যে বড় বড় প্রচারণা করেছেন। ভাগলপুরের মতো কয়েকটি জায়গায় বিজেপি প্রথমবারের মতো পরাজিত হয়েছে যেখানে মোদি নিজে প্রচারণা করেছেন।

৬ লালুপ্রসাদকে প্রচারণার টার্গেট বানানো ঠিক হয়নি বলে মনে করেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। কেন্দ্র থেকে যারা বিজেপির হয়ে নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ করেছেন, তারা বুঝতে পারেননি, এক্ষেত্রে নীতিশ আগে কখনও লালুকে তার প্রচারণার লক্ষ্য বানাননি, তাকে নিয়ে এমনকিছু বলেননি যে এখন দু’জনের ঐক্যকে জনগণের কাছে নেতিবাচক বলে প্রতিপন্ন করা যাবে।  

৭. বিরোধী জোট আগে থেকেই নিশীতকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে একটি বড় চাল চালতে পেরেছিলো বলে মনে করছে বিজেপি। যেখানে তাদের দলে ওই পদের জন্য সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী ছিলো। তারা মোদির পক্ষে, আর মোদির উন্নয়নের পক্ষে ভোট চেয়েছিলো, বিহারের সম্ভাব্য কোন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি যা রাজ্য বিজেপির মতে একটি বড় ভুল ছিলো।

৮. শুধুই মোদি আর অমিত শাহ’র নামে নির্বাচনী প্রচারণার বিপরীতে বিরোধী জোটের বিহারি বনাম বাহারি ক্যাম্পেইন ভালোভাবে কাজ করেছিলো বলে মনে করে রাজ্য বিজেপি। নীতিশ কুমারের পক্ষে স্বয়ং লালু প্রসাদের ভূমিকা বিরোধী জোটকে অনেক এগিয়ে দেয় বলে মনে করছেন তারা।

৯. ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও নীতিশের বিরুদ্ধে তেমন কোন ক্ষোভ নেই বিহারবাসীর। সে কারণে অনেক অনেক হেলিকপ্টার প্রচারণা, টিভি বিজ্ঞাপন দিয়েও কাজের কাজ হয়নি। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মনে করে, এর চেয়ে প্রচারণায় রাজ্যের বিজেপি নেতাদের প্রাধান্য দিলে বেশি ভালো কাজ হতো।

১০. রাজ্যের বিজেপি নেতারা মনে করেন, তারা নীতিশ কুমারের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং হিসেবনিকেশ ধরতে পারেননি। নির্বাচনের ঠিক আগে আগে বিক্ষুব্ধ চাকরিজীবী ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতা, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো, বৃত্তির ব্যবস্থা করা, মেয়েদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা করার মতো কিছু উদ্যোগ নিয়ে তিনি জনগণের কাছাকাছি চলে আসতে পেরেছিলেন যা রাজ্য বিজেপির পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি।  সূত্র: এনডিটিভি

/বিএ/  

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ