behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে ফেসবুক ‍টুইটার গুগল

আরশাদ আলী২১:৩৪, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৫

ইসলামিক স্টেটসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর অনলাইনে প্রচারণা ও সদস্য সংগ্রহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামছে বিশ্বের জনপ্রিয় দু’টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার। সঙ্গে আছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলও। তবে এসব কোম্পানি নীরবেই এটা করছে। কারণ তারা চায় না সাধারণ মানুষ মনে করুক কোম্পানিগুলো পুলিশ ও রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে। শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ একটি ফেসবুক প্রোফাইল ডিঅ্যাক্টিভেট করে। তাদের ধারণা ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনোতে হামলাকারী দম্পতির একজন তাশফিন মালিকের। এ হামলায় ১৪ জন নিহত হন। এফবিআই এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে তদন্ত করছে।

এর একদিন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ও ইউরোপিয়ান কমিশনের কর্মকর্তারা আলাদা আলাদাভাবে ফেসবুক, গুগল, টুইটার ও অন্য কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ‘অনলাইনে সন্ত্রাসবাদের উস্কানি ও ঘৃণা’ ছড়ানোর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ করা হয়।

ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো তাদের পলিসির কথা উল্লেখ করে জানায়, ব্যবহারের নীতিমালা অনুসরণ করে তারা বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট অপসারণ করেন। এর বাইরে কোনও কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লক করতে হলে আদালতের আদেশ প্রয়োজন হয়। এছাড়া যে কেউ অপসারণের জন্য রিপোর্ট, রিভিউ বা ফ্ল্যাগ করতে পারেন।

কোম্পানিগুলো প্রকাশ্যে তাদের এ অবস্থানের কথা জানালেও আসল ঘটনা অনেক বেশি সূক্ষ্ণ ও জটিল। ফেসবুক, টুইটার ও গুগলের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এসব কোম্পানি ভয় পায় যদি পশ্চিমা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে তারা যে পর্যায়ে সহযোগিতা করছে তা যদি প্রকাশিত হয়ে পড়ে তাহলে বিশ্বের সব দেশ থেকে এ ধরণের সহযোগিতার দাবি আসবে একের পর এক।

কোম্পানিগুলো ভয় পায় এতে তাদের ভোক্তা বা ব্যবহারকারী তাদের সরকারের অংশ হিসেবে ভাবতে শুরু করবে। সবচেয়ে ভয় পায় কোম্পানিগুলো যে ভাবে বা প্রক্রিয়ায় ব্যবহারীদের কাজে নজরদারি করে তা যদি প্রকাশিত হয় তাহলে প্রযুক্তিতে পারদর্শী জঙ্গিরা তাদের সিস্টেমকে কিভাবে ফাঁকি দিতে হবে তা জেনে যাবে।

স্পর্শকাতর এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নাম প্রকাশ না অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুক ও টুইটারে কাজ করা এক নিরাপত্তা বিষেশজ্ঞ বলেন, জঙ্গিরা যদি জানতে পারে কিভাবে ‘ম্যাজিক সস’ পুশ করা হচ্ছে তাদের নিউফিডে তাহলে স্প্যামার বা যে কেউ এটা থেকে সুবিধা নেবে।

ফেসবুক, টুইটার ও গুগল বলছে তারা সরকার ও সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগকে আলাদা করে দেখে না। এজন্য এই তিন কোম্পানি নিয়মিত তথ্য চেয়ে সরকারি আবেদনগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এর বাইরে অনেক কিছু হয় বলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাবেক কর্মকর্তা, অ্যাক্টিভিস্ট ও সরকারি কর্মকর্তারা মনে করেন।

কোনও হুমকি, ঘৃণাপূর্ণ কথা বা সহিংসতার উদযাপন কোনও আইন ভঙ্গ করার চাইতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহার নীতিমালাকে লঙ্ঘন করে। এ ধরনের কন্টেন্ট এক মিনিট থেকে ঘণ্টার মধ্যে আদালতের আদেশ ছাড়াই মুছে ফেলা বা ব্লক করে দেয় কোম্পানিগুলো।

অসংখ্য অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে সহায়তাকারী এক অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে টুইটারের সহযোগিতা চাওয়ার চাইতে সরাসরি যোগাযোগ করা সাধারণ ব্যাপার।’

সান বারনারডিনো হামলা ক্ষেত্রে ফেসবুক জানিয়েছে, তাশফিন মালিকের প্রোফাইল তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘণ করছে। ফলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার অথবা প্রচার বন্ধে ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। ফেসবুকের মাখপাত্র জানান, ইসলামিক স্টেটের সমর্থনে মালিকের অ্যাকাউন্টে পোস্ট ছিল। কিন্তু এর বেশি তথ্য দিতে রাজি হননি।

বেশ কয়েকজন সংগঠিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট সরাতে সক্ষম হয়েছে। ফরাসি ভাষায় কথা বলা একজন টুইটার ব্যবহারী জানান, ইউটিউভ থেকে কয়েকহাজার ভিডিও সরিয়ে নিতে তারা ব্যবহারবিধি লঙ্ঘণের অভিযোগ তুলে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেছেন। কর্তৃপক্ষ ওইসব ভিডিও সরিয়ে ফেলে।

রয়টার্সকে এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘যত বেশি রিপোর্ট হবে, তত দ্রুত তা পর্যালোচনা করা হয়।’

ইউটিউভের অপারেশনাল কাজের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা জানান, ভিডিও দেখার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যদি অভিযোগ আসে তাহলে তা দ্রুত পর্যালোচনা করার তাগিদ থাকে কর্তৃপক্ষের।

ইউক্রেনিয়ার নাগরিক নিক বিলোগর্স্কি ফেসবুকের একজন সাবেক নিরাপত্তা স্টাফ। তিনি বেশ কয়েকজন আবেদনকারীকে আপিলে জয়ী হতে সহযোগিতা করেছেন। তিনি জানান, বেশ কয়েক পশ্চিমাপন্থী ইউক্রেনের নাগরিকের অ্যাকাউন্ট বাতিল বা ব্লক করেছে ফেসবুক। ওইসব অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে সংগঠিত রুশভাষী কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

একইভাবে ভিয়েতনামের এক কর্মকর্তার কনটেন্ট সরকারের সমালোচনার মুখে ব্লক করা হয় বলে অ্যাক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফেসবুক।

টুইটার তাদের পলিসিতেও পরিবর্তন আনছে। সহিংসতার পরোক্ষ ও সরাসরি হুমকি বন্ধ করতে টুইটার তার অপব্যবহারের নীতি সংশোধন করেছে। এছাড়া অপব্যবহার রোধের ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করেছে। টুইটারের মুখপাত্র জানান, বিশ্বজুড়ে এখন আমরা দ্রুত সাড়া দিচ্ছি। এদের মধ্যে সরকারের অনুরোধও আছে।

ফেসবুক জানিয়েছে, কোম্পানিটি এ বছর সন্ত্রাসীদের প্রশংসামূলক পোস্ট ব্যান করেছে। গুগলের ইউটিউভ ট্রাস্টেড ফ্ল্যাগার প্রোগ্রামের সম্প্রসারণ করেছে। এতে করে তারা সমস্যাপূর্ণ ভিডিও চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারছে।

তবে গুগলের মুখপাত্র কতজন ট্রাস্টেড ফ্ল্যাগার্স কাজ করছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ইউটিউভের বিধিমালা লঙ্ঘণকারী ভিডিও সনাক্ত করতে গত বছর যারা কাজ করেছেন তারা কেউ যুক্তরাষ্ট্র সরকারি লোক নয় তারা সবাই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের লোক।

সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্টরা চায় ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো শেয়ার হওয়ার আগেই নিষিদ্ধ বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে নিতে। কিন্তু এটা একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও ব্যাপক পলিসির পরিবর্তন করতে হবে। তার মতে, শিশু পনোগ্রাফি ব্লক করা যায় কারণ ওইসব কোম্পানির ডাটাবেজ আছে যা এধরনের ছবি শনাক্ত করতে পারে। কপিরাইট মিউজিকের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। কিন্তু সহিংস ভিডিও যা কোম্পানিটির বিধিমালা ভঙ্গ করে তাও পরিচয় গোপান রেখে সংবাদ হিসেবে জঙ্গিরা আপলোড করতে পারে।

হোয়াইট হাউজের সাবেক ডেপুটি চিফ টেকনোলজি কর্মকর্তা নিকোল উয়ং যিনি টুইটার ও গুগলের লিগ্যাল এক্সিকিউটিভ হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি জানান, টেক কোম্পানিগুলো জিহাদি ভিডিওর কোনও ডাটাবেজ তৈরি করতে চায় না। কোম্পানিগুলোর ভয় বিভিন্ন দেশের নিপীড়ক সরকারের কোনও কিছু পছন্দ না হলেই তা সরাতে বলবে। কোম্পানিগুলোর এ ভয়ের কারণও যথার্থ। কারণ তারা বৈশ্বিক ব্যবসা করে। তারা যদি একটা উদ্দেশ্যে এটা তৈরি করতে পারে তাহলে অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না- এটা বলতে পারবে না। যদি এটা তৈরি হয় তাহলে চীনারাও তাদের ভিন্নমতালম্বীদের দমাতে চাইবে।

/এএ/এমপি/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ