behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

তাশফিন সম্পর্কে যা বললেন স্বজনরা

মিছবাহ পাটওয়ারী২২:০৬, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৫

Tashfeenক্যালিফোর্নিয়ার বন্দুক হামলায় পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন হামলাকারী তাশফিন মালিক। এ পাকিস্তানি নাগরিক কিছুদিন সৌদি আরবে ছিলেন। মূলত এ সময়েই মৌলবাদী চিন্তাধারায় আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এমনটাই দাবি তাশফিনের স্বজনদের।

স্বজনরা বলছেন, মধ্যপন্থী মুসলিম পরিবারের সদস্য হলেও তাশফিন ও তার বাবা উগ্রবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থানকালে তাশফিন আরও উগ্রবাদী হয়ে উঠেন।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে তাশফিন মালিকের এমন কর্মকাণ্ডে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন পাকিস্তানে বসবাসরত তার স্বজনরা।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করে নিজের মেয়েকে নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাশফিনের বাবা।

পাঞ্জাবের কারোর লাল ইসান শহরের বাসিন্দা তাশফিন মালিকের সৎ ফুপু স্কুল শিক্ষিকা হিফজা বিবি। তিনি বলেন, আমরা যা শুনলাম, তারা আলাদা থাকছে। তাদের মনস্তত্ত্বও আলাদা। আমরা সুফি-সাধুদের দেশের মানুষ। এই ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

সূফিবাদ মূলত নিগূঢ়, ব্যক্তিগত ধর্মীয় সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেয়।

হিফজা বিবি বলেন, সৌদি আরব যাওয়ার পর আমাদের ভাই এখানে আমাদের কারও খোঁজখবর রাখতো না। একজন ব্যক্তি যে তার মায়ের দাফনেও অংশ নেয়নি তার কাছ থেকে আপনি কি আশা করতে পারেন?

এক পর্যায়ে পাকিস্তানে ফিরে যান তাশফিন মালিক। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি মুলতানের বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেন। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকতেন। আইডি কার্ড অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলার সময় তার বয়স ছিল ২৯ বছর।

পাকিস্তানের একটি গোয়েন্দা সূত্র রয়টার্সকে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভালো ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ সময় তার মধ্যে কোনও উগ্রপন্থী প্রবণতা দেখা যায়নি।

তাশফিন মালিকের চাচা জাভেদ রাব্বানি শিক্ষা বিভাগের একজন করণিক। তিনি জানান, গত ৩০ বছরে তিনি তার ভাইকে দেখেননি।

জাভেদ রাব্বানির ভাষায়, আমরা বিষণ্ণ বোধ করছি। আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত কারণ আমাদের পরিবারের একজন সদস্য এ কাজ করেছে। এ ধরনের কিছু আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। এটা আমাদের সঙ্গে বেমানান একটি মানসিকতা।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৩ এবং ২০১৪ সালেও পাকিস্তান সফর করেন তাশফিন। তবে এসব সফরে তিনি কার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং কোথায় কোথায় গেছেন সেটা পরিষ্কার নয়।

উল্লেখ্য, বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনো এলাকায় ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার ইস এ হেলপ অ্যান্ড মেডিক্যাল অর্গানাইজেশন নামের একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ১৪ জন। আহত হন ২১ জন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করেই সেনাবাহিনীর মতো পোশাক পরিহিত তিনজন এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে ভবনটিতে ঢুকে পড়ে। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী দম্পতি সাঈদ ফারুক এবং তাশফিন মালিক। তাদের ভাড়া করা গাড়িতে দুটি রাইফেল, দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডগান ও এক হাজার ৬০০টি গুলি পাওয়া যায়। পরে তাদের বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১২টি পাইপ বোমা ও সাড়ে চার হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। হামলার আগে তারা নিজেদের ৬ মাস বয়সী সন্তানকে ফারুকের মায়ের কাছে রেখে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ডন, রয়টার্স।

/এমপি/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ