কেবল ট্রাম্প নয়, ৫৫ শতাংশ মার্কিনিই মুসলমানবিদ্বেষী!

Send
বাধন অধিকারী
প্রকাশিত : ১৫:০৫, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৭, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫

কেবল ট্রাম্প নয়, ৫৫ শতাংশ মার্কিনিই মুসলমানবিদ্বেষী!মুসলমানবিরোধী সাম্প্রতিক মন্তব্য একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেমন বিতর্কের মুখে ফেলেছে, অন্যদিকে ওই মন্তব্যের পর বেড়ে গেছে তার জনপ্রিয়তা। বিভিন্ন জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরী করা গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে দেখা যায়, আসলে ৫৫ শতাংশ মার্কিনির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন রিপাবলিকান দলের এই প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী। ওই মার্কিনিদের ইসলামবিদ্বেষের আগুনে ঘী ঢেলেছেন ট্রাম্প। এদিকে মার্কিন জরিপ সংস্থা পাবলিক পলিসি পোলিং-এর ওয়েবে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে ইসলামভীতি সংক্রান্ত প্রচারণা।

সোমবার মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলেন রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়া হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকানদের প্রতি মুসলমানদের ঘৃণা দেশটাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। তবে এটাই প্রথম নয়, সম্প্রতি প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমান জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করে তোলেন রিপাবলিকান দলের এই প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী। ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলার পর মুসলমানদের প্রতি তার বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য বেড়ে যায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ঘিরে একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। ওই প্রতিবেদনে ইউগভ পোলের বরাতে বলা হয়, ৫৫ শতাংশ আমেরিকান মুসলমানদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। ট্রাম্প তাদের উদ্দেশ্য করেই ওই ইসলামবিরোধী মন্তব্য করেছেন। এ বছরের শুরুতে করা ইউগভ জরিপে দেখা যায়, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী, রিপাবলিকান সমর্থক এবং শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের মধ্যে ইসলামবিরোধীতা একটা সাধারণ ব্যাপার।

মুসলমানবিদ্বেষ

২০১৪ সালে পরিচালিত পিও রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত আরেক জরিপের প্রসঙ্গও উঠে আসে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে। ৩ হাজার মার্কিনির উপর পরিচালিত ওই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ১ থেকে ১০০ নম্বর দিয়ে বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষ সম্পর্কে তাদের ধারণা প্রকাশ করতে বলা হয়। এই জরিপে সবচেয়ে কম ৪০ নম্বর জোটে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের ভাগ্যে।

আরেক জরিপের বরাতে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ১ শতাংশ আমেরিকান নিজেদের মুসলমান বলে পরিচিত করতে চান, যদিও তাদের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত ইউগভ-এরই আরেক জরিপের বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, বেশিরভাগ ব্রিটিশ নাগরিক ইসলাম বা মুসলমান শব্দটি শুনলেই এর বিপরীতে সন্ত্রাস-সন্ত্রাসবাদ-সন্ত্রাসী শব্দটি ভাবতে পছন্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতাও আলাদা নয়। আরেক জরিপের বরাতে গার্ডিয়ান তাই জানাচ্ছে, ৭৪ শতাংশ আমেরিকান মুসলমানদের সহকর্মী হিসেবে চায় না। ৬৮ শতাংশের কোন মুসলমান বন্ধু নেই। আর ৮৭ শতাংশ আমেরিকান কোন মসজিদে প্রবেশ করেননি কোনদিন।

মুসলমানবিদ্বেষ

সে কারণেই বিভিন্ন জরিপের বরাতে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দেখানো হয়, মুসলমানবিরোধী ওই মন্তব্যের পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষন করে গার্ডিয়ান দেখিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্যে মুসলমানদের বিপরীতে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন থাকার কারণেই তার সমর্থন বেড়েছে।

মার্কিন জরিপ সংস্থা পাবলিক পলিসি পোলিং-এর ওয়েবে গিয়েও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সংক্রান্ত এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। ওই সংস্থার পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে ইসলাম সংক্রান্ত ভীতির প্রচারণা। তাদের নর্থ ক্যারোলিনা পোল বলছে, ওই মন্তব্যের পর ট্রাম্প জনপ্রিয়তার এমন পর্যায়ে অবস্থান করছেন, আগে কখনও যে অবস্থান ছিলো না তার।

/বিএ/

লাইভ

টপ