ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলাকারী নারী তাশফিন মালিক পাকিস্তানি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৫২, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৯, ডিসেম্বর ২০, ২০১৫

s3.reutersmedia.netক্যালিফোর্নিয়ায় হামলাকারীদের একজন তাশফিন মালিক পাকিস্তানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দারা। শুক্রবার দুই পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মালিকের পরিবারের সদস্যরা বার্তা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবে গিয়ে মালিকের বাবা ‘রক্ষণশীল ও মৌলবাদীতে’ পরিণত হন।
বুধবার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে ১৪ জন নিহত এবং ২১ জনের আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই হামলাকারী সৈয়দ ফারুক ও তার স্ত্রী তাশফিন মালিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবরে বলা হয়, সান বারনারডিনোয় গুলিবর্ষণকারী তাশফিন মালিক ২৫ বছর আগে পাকিস্তান থেকে সৌদি আরব যান। কিন্তু সম্প্রতি তিনি পাকিস্তানে ফিরেন। পাকিস্তানে তিনি ফার্মাসিস্ট হওয়ার জন্য পড়াশোনা করেন।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, ২৭ বছর বয়সী তাসফিন মালিক পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের পাঞ্জাব প্রদেশের লাইয়া জেলার বাসিন্দা। ৫-৬ ছয় বছর আগে তিনি মুলতানের বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মকর্তারা রয়টার্সকে আরও জানান, মালিকের দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছে। মালিক সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী আহমেদ আলীর আত্মীয় বলেও জানান তারা।
মালিকের এক চাচা জাভেদ রব্বানি জানান, মালিকের বাবা গুলজার সৌদি আরবে বসবাস করার সময়ই বদলে যান। তিনি বলেন, যখন আত্মীয়রা তার সঙ্গে দেখা করার পর আমাদের বলত গুলজার কি পরিমাণ রক্ষণশীল ও মৌলবাদিতে পরিণত হয়েছেন।
বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পাকিস্তান ইন্টেলেজিন্সের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান রব্বানি।
আরেক চাচা মালিক আনোয়ার জানান, মালিকের বাবা মুলতানে একটি বাড়ি তৈরি করেছেন। যখন তিনি পাকিস্তান আসতেন তখন ওই বাসাতেই থাকতেন।

এর আগে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর প্রতি তাশফিন মালিকের ‘আনুগত্য’ ছিল বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম সিএনএন। শুক্রবার হামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানায় সংবাদমাধ্যমটি। তবে, তদন্তকর্মকর্তাদের পরিচয় জানানো হয়নি প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাকারী তাশফিন মালিক আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাশফিন ভিন্ন নামে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তবে, কর্মকর্তারা জানাননি তারা কিভাবে জানলেন যে এই পোস্ট তাশফিন মালিকই করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, বুধবারের হামলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই হামলাকারী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক ও তার স্ত্রী তাশফিন মালিক আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারেন। ওই কর্মকর্তা  আরও বলেন, মনে হচ্ছে, তিনি নিজ থেকেই মৌলবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।  তবে, কোনও কর্মকর্তাই আইএসের সরাসরি নির্দেশে হামলা হওয়ার বিষয়টি বলেননি।

এদিকে, আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, অন্য কেউ তাদের উগ্রপন্থীতে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে ভাবা হচ্ছে না। তদন্তকারীরা কর্মক্ষেত্রে ধর্মবিষয়ক কোনও ইস্যু থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা পর্যালোচনা করছেন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, অনলাইন ডেটিং সাইটের মাধ্যমে ফারুকের সঙ্গে মালিকের পরিচয় হয়। দুবছর আগে সৌদি আরবে গিয়ে ফারুক বিয়ে করেন মালিককে। তাদের ছয় মাসের একটি সন্তানও রয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর হামলাকারী দম্পতি সাঈদ ফারুক আর তাশফিন মালিকের ভাড়া করা গাড়িতে দুটি রাইফেল, দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডগান ও এক হাজার ৬০০টি গুলি পাওয়া যায়। পরে তাদের বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১২টি পাইপবোমা ও সাড়ে চার হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। হামলার আগে তারা তাদের ৬ মাস বয়সী সন্তানকে ফারুকের মায়ের কাছে রেখে আসেন বলে জানান কাউন্টির পুলিশ প্রধান।

/এএ/বিএ/

লাইভ

টপ