দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীনের বিদ্যমান সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীনা মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। শুক্রবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এতে সাগরটিতে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।
টুইটে পম্পেও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বন্ধুদের সঙ্গে একমত যে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অংশে চীনের সামরিক অনুশীলন অত্যন্ত উসকানিমূলক। আমরা বেইজিং-এর বেআইনি দাবির বিরোধিতা করছি।’
আরেক টুইটে তিনি লিখেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে এবং যে কোনও স্থানে সবাইকে আকার, ক্ষমতা এবং সামরিক ক্ষমতা নির্বিশেষে সব দেশের সার্বভৌম অধিকারকে সমর্থন করতে হবে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় গত ১ জুলাই শুরু হওয়া চীনের এ সামরিক মহড়া আগামী ৫ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
মৎস্য সম্পদসহ খনিজ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। পুরো সমুদ্রপথকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। তবে আরও কয়েকটি দেশও ওই অঞ্চলের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। দেশগুলো হচ্ছে মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলের দাবি না করলেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হিসেবে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় তারা। এর অংশ হিসেবেই এ সাগরে চীনের চলমান মহড়ায় ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের আপত্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে পম্পেও মন্তব্য করেন, ভারতের সীমান্ত কিংবা হংকং বা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে দেশটির আচরণের ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। চীনের আচরণের প্রভাব কেবল সে দেশে ও হংকংয়ে বসবাসকারীদের ওপরই নয়, বরং পুরো দুনিয়ার মানুষের জীবনের ওপর পড়ছে। তিনি বলেন, আমেরিকার দায়িত্ব এবং ক্ষমতা রয়েছে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি, মার্কিন নাগরিকরা যথাযথ পররাষ্ট্রনীতির পরিষেবা পাচ্ছেন। আজকের দিনে চীনের হুমকিকে চিহ্নিত করে ফেলা হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স।








