ভারতের ট্রেনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পলাতক সেনাদের খোঁজে তল্লাশি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:১৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫

 যৌন নিপীড়নের প্রতিকী ছবিভারতে অমৃতসর এক্সপ্রেস নামের ট্রেনে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক দুজনকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। তাদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের বরাতে জানিয়েছে কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। এ ঘটনায় এরইমধ্যে ধরা পড়েছেন মঞ্জরীশ ত্রিপাঠী নামের একজন সেনাসদস্য।
সোমবার ঝাড়খণ্ডের মধুপুরে অমৃতসর এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেন থামিয়ে সেনাদের জন্য সংরক্ষিত বিশেষ কামরা থেকে নাটকীয়ভাবে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, সেনাবাহিনীর তিন সদস্য ওই চলন্ত ট্রেনে কিশোরীকে মাদক দিয়ে বেহুঁশ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। অভিযুক্ত তিনজন সেনাসদস্যের মধ্যে ধরা পড়া মঞ্জরীশ ত্রিপাঠীকে মঙ্গলবার হাওড়ার জেলা আদালতে পেশ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে ধৃত মঞ্জরীশ ত্রিপাঠীর মতো ওই দুজনও সেনাকর্মী। ওই দুজনের খোঁজ পেতে ট্রেনের আসন সংরক্ষণের তালিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যোগাযোগ করা হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতর থেকে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, বাহিনীতে বিশৃঙ্খলার কোনও জায়গা নেই। যদি কোনও সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর তরফে আরও জানানো হয়েছে, তদন্তে রেল পুলিশকে সব রকম সাহায্য করবে তারা। পলাতকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেফতার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে।
মঙ্গলবার হাওড়া আদালতের বিচারক ধরা পড়া মঞ্জরীশ ত্রিপাঠীকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন। রেল পুলিশ তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শিশুকে যৌন নির্যাতনের মামলা করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে তার। পলাতক দুজনের ক্ষেত্রেও একই ধারা প্রয়োগ করা হবে বলে জানায় রেল পুলিশ। নির্যাতনের শিকার কিশোরীকে এ দিন হাওড়া আদালতে আনা হয়। বিচারক তার গোপন জবানবন্দি নেন। আদালতে ঘটনার কেস ডায়েরি-সহ হাওড়া হাসপাতালে ওই কিশোরীর মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পেশ করে পুলিশ। তবে হাওড়া হাসপাতাল সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার জানায়,  প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তার দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাননি। এদিকে মধুপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যে চিকিৎসকরা ঘটনার পরেই ওই কিশোরীকে পরীক্ষা করেছিলেন, তার রিপোর্ট এখনও হাওড়া হাসপাতালে জমা পড়েনি।

মধুপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অর্জুন ত্রিপাঠী জানান, বু‌ধবার, তাঁরা ওই রিপোর্ট হাতে পাবেন। তার পরেই তা পাঠিয়ে দেবেন হাওড়া জিআরপির কাছে। হাওড়া জিআরপির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আনন্দবাজারকে জানান, এখন ধর্ষণের স‌ংজ্ঞা বদলেছে। তাই দেহে আঘাতের চিহ্ন না পাওয়া গেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে সমস্যা হবে না। মেয়েটি তাঁদের কাছে যে বক্তব্য রেখেছে সেটাই যথেষ্ট। যে কামরায় মেয়েটিকে মঞ্জরীশের সঙ্গে পাওয়া গেছে, সেই কামরার সব যাত্রীর সঙ্গে প্রয়োজনে কথা বলবে জিআরপি।

এদিকে রেল পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে আনন্দবাজার জানিয়েছে, জওয়ানদের জন্যে সংরক্ষিত কামরাটির ভিডিও করে রাখা হয়েছে। তাই সাক্ষ্যের জন্য ওই কামরার অন্য যাত্রীদের চিহ্নিত করতে সমস্যা হবে না। সূত্র: আনন্দবাজার

/বিএ/

লাইভ

টপ